চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর সংগঠিত এক ছাত্রলীগ নেতা ও এক শিশু সহ চাঞ্চল্যকর জোড়াখুন মামলার প্রধান আসামী শাহীন রেজা(২২) সহ এজাহারনামীয় দুই আসামীকে দীর্ঘ অভিযানের পর গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ(ডিবি)। উদ্ধার করা হয়েছে হতাকান্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরি। রবিবার (১২ জানুয়ারী) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার রেজাউল করিম তাঁর কার্যালয়ে এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, গত ১০ জানুয়ারী শাহীন সাভার ও অপর আসামী সামাদ আলী (৩০) ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে গ্রেপ্তার হয়। গত শনিবার(১১ জানুয়ারী) গ্রেপ্তার প্রধান আসামী শাহীন চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আশরাফুল ইসলামের আদালতে ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেছেন। শাহীন নাচোলের ফতেপুর ইউনিয়নের বাহির মল্লিকপুর গ্রামের তোফজুল হকের ছেলে। সামাদ একই গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে।
এর আগে গত ১৭ ডিসেম্বর ফতেপুর ইউনিয়নের মল্লিকপুর বাজারে স্থানীয় শহীদ জিয়া স্মৃতি সংঘ আয়োজিত বিজয় দিবসের আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ছুরিকাঘাতে নিহত হন ফতেপুর ইউনিয়নের খলসি গ্রামের মো. এজাবুলের ছেলে,চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি পলিটেকনিক ইনিষ্টিটিউট ছাত্র,পলিটেকনিক শাখা ছাত্রলীগ শীর্ষ নেতা ও নাচোল উপজেলা ছাত্রলীগ সহ-সম্পাদক মাসুদ রানা (২০) এবং একই গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে ও মল্লিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণীর সমাপনী পরীক্ষা দেয়া মো.রাইহান(১৫)। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয় নিহতদের সহযোগী ও একই গ্রামের বাসিন্দা আরও চার কিশোর-তরুন। এ ঘটনায় পরদিন ১৮ ডিসেম্বর নিহত মাসুদের পিতা নাচোল থানায় ১০ জনকে এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাত ৭/৮জনকে আসামী করে মামলা করেন। ঘটনাটি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। হতহতদের স্বজনরা ও এলাকাবাসী ব্যাপক বিক্ষোভ প্রকাশ করে দোষীদের দ্রæত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তোলেন।
পুলিশ সুপার বলেন,পেয়ারা বাগানে কাজ করা নিয়ে বাহির মল্লিকপুর গ্রামের শাহিন ও পাশের খলসি গ্রামের সালাম সর্দাদের মধ্যে পূর্ব-শত্রæতার জের ধরে দুই গ্রামের কিশোর-তরুনদের উত্তেজনা চলছিল। এর মধ্যে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে শাহিনের ভাতিজা তামিমের সাথে খলসি গ্রামের কিশোর-তরুনদের বাক-বতিন্ডা থেকে ঘটনার সূত্রপাত। এটি কোন রানৈতিক হত্যাকান্ড নয়। যদিও একটি মহল ঘটনার পর থেক্ইে একে রাঝনৈতিক রুপ দেয়ার চেষ্টা করছে।নানা রকম বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। পুলিশ সুপার আরও বলেন, ঘটনার তদন্ত চলমান। মামলায় এ পর্যন্ত চারজন এজাহারনামীয় ও একজন তদন্তেপ্রাপ্ত সহ পাঁচজন জন গ্রেপ্তার হয়েছে। ব্রিফিং এ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াসিন আরাফাত,ডিবি’র ওসি শাহীন আকন্দ ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি’র উপ-পরিদর্শক ফয়সাল হাসান উপস্থিত ছিলেন।