সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

স র জিৎ ঘো ষ

  • সন্দেহ
  • ২০২৪-১১-১৩ ১৪:২৭:৪৬

জানালার সীটে বসেছেন বিবাহিত এক মহিলা। হাতে একটা ইংরেজি পেপার, 'দি স্টেটসম্যান'। একটু অবাকই হলাম। পোশাক আশাক সাজগোজের সাথে  ইংলিশ পেপারটা ঠিক যাচ্ছিল না। আজকাল হাতে যখন সবার মোবাইল, তখন এই মহিলার হাতে খবরের কাগজ তাও আবার ইংরেজি পেপার? কি জানি বাবা! কেমন যেন একটু লাগছিল। কে কতটা শিক্ষিত সেটা কি বাইরে থেকে দেখে বোঝা যায়? হলেও হতে পারে।  মহিলার বয়স কত হবে আর ওই চব্বিশ কি পঁচিশ। হাতে স্টেটসম্যান পত্রিকাটি আছে বটে, দুটো স্টেশন পেরিয়ে গেল অথচ পেপারটা খুলে পড়তেও দেখলাম না একবারও। মনে মনে ভাবছি হয়তো পড়া হয়ে গেছে, তাই।
আসলে ঘটনাটা গত পরশুর। সকালের আপ মেদিনীপুর লোকাল। আমি উলুবেড়িয়া থেকে উঠেছি। ভীড় নেই। সীট ফাঁকা। আরাম করে বসেই যাওয়া যাবে। আমি বসেছি ওই মহিলার অপজিট দিকের সীটেই। বাগনান থেকে এক ভদ্রলোক এবার ট্রেনে উঠলেন। হাতে লেদারের ব্যাগ। ফ্রেঞ্চ কাট দাড়ি, চোখে চশমা, বয়স পঁয়তাল্লিশের কাছাকাছি।  ব্যাগটা বাঙ্কারে তুলে দিয়ে মহিলার পাশের সীটে বসলেন। কিছুক্ষণ পর ভদ্রলোক  মহিলার হাতের খবরের কাগজের দিকে মনোনিবেশ করে মহিলাকে বললেন,
"এক্সকিউজ মি! পেপারটা পাওয়া যেতে পারে?"
মহিলা ঠিকমতো বুঝতে পারেননি কথাটা। তাই জিজ্ঞেস করলেন,
-কিছু বললেন নাকি?
-না মানে পেপারটা চাইছিলাম আর কি!
-খবরের কাগজ নিবেন ? কার জন্য নিবেন? হ্যাঁ হ্যাঁ নিন না। বলেই খবরের কাগজের ভিতর থেকে দুটো পৃষ্ঠা ফরফর করে  বের করে দিয়ে ভদ্রলোকের হাতে দিয়ে বললেন,
-এই দুটাতেই হবে? নাকি আরো নিবেন?
ভদ্রলোক শুনে বললেন, ফ্রন্ট পেজটা আগে দিন।
মহিলা কি বুঝলেন কি জানি, বললেন, পুরোটাই নিয়ে নিন।আপনার দরকার যখন সব গুলোই নিন না। আমাদের ব্যাগে আরো আছে। সামান্য দামের জিনিস। বাইরে বেরুলে খবরের কাগজ একটু বেশি করে নিয়েই  নিয়েই বেরোই আমার ছেলের জন্য। ট্রেনে এত দূর রাস্তা। পাইখানা পেলে কোথায় করাব, বাচ্চা তো। তাই যেখানে যাই সঙ্গে খবরের কাগজ রাখি।  বেশি দাম না, এক কেজি খবরের কাগজের দাম তিরিশ টাকা মাত্র।
ভদ্রলোক যা বোঝার বুঝে গেছেন। 'আরে না না লাগবে না, আমি ভাবলাম আজকের পেপার। পড়ব বলে চাইছিলাম। ইটস ওকে।'
আমার পাশের সীটে বাচ্চা কোলে বসেছিলেন মহিলার স্বামী। উনি এপাশ থেকে বললেন,  পম্পা এক কাজ কর তুই কাগজটা বদ্দাকে দিয়ে দে, বদ্দা যখন পড়বে বলছে, পড়ুক। সোন্টু পাইখানা করলে ব্যাগে তো আরো কাগজ আছে। 
নিউজ পেপারের এমন উপকারিতা জেনে  আমার ভাল্লাগলো। হাতে নিউজ পেপার আছে মানেই সবাই পড়ার জন্য রাখে না এটা  কিন্তু বুঝতে হবে। এই তো আজকেই সকালে হাওড়া থেকে  পাঁশকুড়া লোকালে উঠেছি, দেখছি অল্প বয়সী একটি ছেলে আর একটি মেয়ে পাশাপাশি বসে গল্প করছে, দেখে মনে হলো প্রেমিক প্রেমিকা। ছেলেটির হাতেও একটি নিউজ পেপার, মেয়েটির হাতে একটি জলের বোতল। বুঝতে পারলাম না ওরা  কি করবে? পড়বে, নাকি পেতে পায়খানা করবে, কে জানে বাবা! একটা  সন্দেহ তো থেকেই গেলো!
 


এ জাতীয় আরো খবর