রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প গতবার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে হেরে এবার দৃঢ় আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্রেসিডেন্ট পদের জন্য আবারও লড়ছেন। তবে ডেমোক্রেটিক কমলা হ্যারিসের সাথে টক্করে পেরে ওঠাটা সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য কঠিন হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী থেকে রাজনীতিবিদ, প্রেসিডেন্টের দায়িত্বপালন ও পরবর্তীতে মার্কিন রাজনীতিতেতে ট্রাম্পের অবস্থান নিচে তুলে ধরা হলো।
১৯৪৬ সালে জন্ম নেয়া ট্রাম্প উত্তরাধিকারসূত্রেই মালিক হন রিয়েল এস্টেট ব্যবসার। পরবর্তীতে টিভি ও চলচ্চিত্রের প্রযোজনা, রিয়েলিটি শোসহ বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগের মধ্য দিয়ে হয়ে ওঠেন ধনকুবের। কোনও অভিজ্ঞতা ছাড়াই ২০১৬ সালে ধনাঢ্য ব্যবসায়ী থেকে রাজনীতিতে পা রাখেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির ঝানু রাজনীতিবিদ হিলারি ক্লিনটনকে হারিয়ে পেয়ে যান হোয়াইট হাউসের চাবি। ব্যবসায়ী থেকে পুরোদস্তুর রাজনীতিবিদ বনে যান ট্রাম্প।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ট্রাম্পকে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। সে সময় অভিবাসন বিরোধী মনোভাব, মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ, নতুন করে বর্ণ বিদ্বেষ উস্কে দেয়াসহ নানা বক্তব্যের জন্যেও তিনি সমালোচিত হয়েছেন। তবে,ওই চার বছরে অর্থনীতি সচল করা ও রক্ষণশীল মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় অনেকটা সফল ছিলেন ট্রাম্প। সফলতা ও ব্যর্থতার মাঝে ৪ বছর প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের পর ২০২০ সালে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দাঁড়ান ট্রাম্প। কিন্তু জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ট্রাম্প সেবার বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে হেরে যান।
এরপর ট্রাম্পের লড়াই চলে রাজনীতির মাঠ থেকে আদালত পর্যন্ত। বিভিন্ন অপরাধে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একের পর এক হতে থাকে মামলা। ইতিহাসে প্রথম সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন ট্রাম্প। ঘুষ দিয়ে তথ্য গোপন করার বিষয়ে আনা ৩৪টি অভিযোগের সবগুলোতেই ট্রাম্পের দায় প্রামণিত হয়। এছাড়াও, প্রেসিডেন্ট থাকাকালে শত শত সরকারি কাগজপত্র গোপন রাখা, ২০২০ সালের নির্বাচনী ফলাফল পাল্টে দেয়ার চেষ্টা ও ২০২১ সালে ক্যাপিটল হিলে দাঙ্গায় জোগসাজোস থাকাসহ আরও ৮টি ফৌজদারি মামলায় খড়গ ঝুলছে ট্রাম্পের মাথায়। খারজি হয়েছে ৫টি ফৌজদারি মামলা।
মামলা আর আদালতে ছোটাছুটির মধ্যেও আবারও প্রেসিডেন্ট পদে দাঁড়ান ডোনাল্ড ট্রাম্প। একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী নিকি হ্যালিকে হারিয়ে সহজেই রিপাবলিকান পার্টির পক্ষ থেকে পান দলীয় মনোনয়ন। শুরু করেন নির্বাচনী প্রচারণা। প্রজনন সংক্রান্ত চিকিৎসা ফ্রি, বৈশ্বিক অস্থিরতা ঠেকানো ও অভিবাসী তাড়ানোসহ দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্র“তি।তবে তার প্রতিপক্ষ ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী কমলা হ্যারিস রয়েছেন বেশ শক্ত অবস্থানে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের অভব্য আচরণ, গণতন্ত্রবিরোধী কথাবার্তা এবং প্রতিপক্ষকে কটাক্ষ ও উপর্যুপরি হুমকি দিয়ে যাওয়া এবারের নির্বাচনে তার পরাজয় ডেকে আনতে পারে। তবে যে বিষয়টি ট্রাম্পকে নিশ্চিতভাবে স্থায়ী অবসরে পাঠিয়ে দিতে পারে, সেটি হলো আমেরিকার জনসংখ্যাগত অবস্থা। কারণ এবারের নতুন তরুণ ভোটাররা মানবাধিকার, গণতন্ত্র এবং পরিবেশ ইস্যুতে অনেক উদারপন্থী। এই প্রবণতা তাদের বামপন্থী ডেমোক্রেটিক পার্টিকে ভোট দিতে উৎসাহিত করতে পারে। এতোকিছুর পরও চুড়ান্ত রায়ে ট্রাম্প জয়ী হলে শুধু মার্কিনীদের কাছে নয়, মহাচমক সৃষ্টি করবেন গোটা বিশ্বেই।