চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী মামলা হয়েছে। ককটেল বিস্ফোরণ, সড়ক অবরোধ,সরকারি কাজে বাধাদান,পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তি ও পুলিশের পোষাক নিয়ে টানাটানি ইত্যাদি অভিযোগে গত বুধবার (১৭জুলাই) সদর থানায় মামলা দায়ের হয়। মামলায় ১০ জনকে এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাত ১শ থেকে ১২০ জনকে আসামী করা হয়। মামলার পর পুলিশ বুধবার দু’জন ও বৃহস্পতিবার(১৮ জুলাই) আরও ৩ জনসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারদের বৃহস্পতিবার বিকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া জিজ্ঞাসবাদের জন্য আরও অন্তত: ৪ জনকে পুলিশ আটক করেছে। এছাড়া সংস্কারপন্থীরা গত মঙ্গলবার(১৬ জুলাই) জেলা শহরের শান্তিমোড় এলাকায় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ। পরে পুলিশ ওই এলাকা থেকে ২টি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার ও বিষ্ফোরিত ককটেলের অংশ আলামত হিসেবে জব্দ করেছে করে বলেও দাবি করেছে পুলিশ। সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মেহেদি হাসান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আন্দোলনের তৃতীয় দিন অর্থাৎ ‘কমপ্লিট শাটডাউনের’ দিন বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শহরে কড়া পুলিশী নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। শাটডাউন আংশিক ও বিচ্ছিন্নভাবে পালিত হয়েছে। কিছু দোকানপাট বন্ধ থাকলেও বেশিরভাগ ছিল খোলা। মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোতে দূরপাল্লার বাস কম দেখা গেলেও আন্ত:জেলা বাস যোগাযোগ স্বাভাবিক ছিল। ট্রেন চলাচলও ছিল স্বাভাবিক। সোনামসজিদ স্থলবন্দর খোলা ছিল। আমাদানী পণ্যবাহী কিছু ট্রাক দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে গেছে। তবে সাধারণের ভেতর ও চলাচলে অস্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে। সবত্রই ছিল কিছুটা আতংক ও থমথমে ভাব।
অপরদিকে আন্দোলন কেন্দ্র নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ এলাকায় সকালে আন্দোলনকারীরা জড়ো হওয়া ও বিক্ষোভ মিছিল বের করার চেষ্টা শুরু করলে বাধা দেয় পুলিশ আটক করা হয় ৩ জনকে। পরে বিকাল পর্যন্ত জেলার কোথাও আর আন্দোলনকারীদের তেমন কোন তৎপরতার খবর পাওয়া যায় নি। উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়,কলেজ ও সমমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলা ছিল এবং যথারীতি ক্লাস ও পরীক্ষা হয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার প্রথমবারের মত দফায় দফায় রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ সোনামসজিদ অবরোধ ও শহরে বিক্ষোভ হয়। গত বুধবারও একই ধরণের কর্মসূচী পালণ করেন আন্দোলনকারীরা।