সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতির কারণে বাংলাদেশ সামাজিক ও অর্থনৈতিকসহ নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৪-০৪-০৬ ১০:০৩:৪৩

নিরাপত্তা পরিষদে আয়োজিত এক উন্মুক্ত আলোচনায় জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত বলেছেন, রাখাইনে সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। 
এসময় তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতির কারণে বাংলাদেশ সামাজিক ও অর্থনৈতিকসহ নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। এসব সমস্যার উত্তোরন করতে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন জরুরি। আর এ জন্য রাখাইনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করা প্রয়োজন। তা না হলে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক প্রচেষ্টাগুলো সফল হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে বলে মনে করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত এই রাষ্ট্রদূত।
এ সময় আব্দুল মুহিত, প্রত্যাবাসন ইস্যুতে প্রকৃত রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রদর্শন এবং ২০১৭ ও ২০১৮ সালে স্বাক্ষরিত দ্বিপাক্ষিক প্রত্যাবর্তন চুক্তি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানান। এছাড়া আগামীতে দেশে ফেরার পর রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনে সহায়তা করার জন্য তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বিশেষ করে আঞ্চলিক সংস্থাগুলো এবং আঞ্চলিক ও প্রতিবেশী দেশগুলোকে অর্থপূর্ণ এবং কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার অনুরোধ জানান।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন ২৬৬৯-এর কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত মুহিত বলেন, রাখাইনে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরির জন্য রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণগুলো অনুধাবন করা জরুরি, যা মূলত মিয়ানমারের বিদ্যমান বৈষম্যমূলক আইনি ও রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে অন্তর্নিহিত।
রাষ্ট্রদূত মুহিত আরও বলেন, “এই অন্তর্নিহিত সমস্যাগুলোর সমাধান করা না গেলে দ্বিপাক্ষিক ও আঞ্চলিক প্রচেষ্টাগুলো সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।"
দশ লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবিক নেতৃত্বের নিদর্শন রেখে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা নিরাপদে নিজ গৃহে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য সবাইকে আহ্বান জানান। 


এ জাতীয় আরো খবর