বৃহস্পতিবার, জুন ১৩, ২০২৪

কপিলমুনির নার্সারী গুলোতে তালের চারা উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে

  • এইচ,এম,শফিউল ইসলাম,
  • ২০২৩-১১-০৩ ১৪:১৮:১০

কপিলমুনি (খুলনা) সংবাদদাতা 
পাইকগাছার কপিলমুনিতে বানিজ্যিক ভিত্তিতে নার্সারীতে তালের চারা উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তালের চারার চাহিদা বাড়ায় নার্সারীগুলিতে প্রচুর পরিমাণ চারা তৈরি করা হচ্ছে। পাইকগাছার সততা নার্সারীতে গত মৌসুমে প্রায় ৮০ হাজার তালের চারা তৈরীর পরিচর্যা চলছে।চলতি মৌসুমে মায়ের দোয়া নার্সারীতে প্রায় ৩২ হাজার চারা তৈরির প্রস্তুতি চলছে।তাল গাছ প্রকৃতির বন্ধু ও প্রাকৃতিক ভারসম্য রক্ষাকারী বৃক্ষ। তালগাছ পরিবেশ বান্ধব ও বজ্রপাত থেকে রক্ষাকারী গাছ। তালগাছ ভুমির ক্ষয়রোধ ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।তাই তালের চারা রোপন করা হচ্ছে প্রচুর পরিমানে।
তাল একটি অতি প্রাচীন ফল। একক কান্ড বিশিষ্ট এদেশে অতি পরিচিত একটি বৃক্ষ। এর কান্ড সোজা এবং চমৎকার আকৃতির পাতাগুলো পাখার মত গোলাকার। তালের জন্মস্থান মধ্য আফ্রিকা বলে ধারণা হলেও অনেকে বলেন এটি আমাদের উপ-মহাদেশীয় বৃক্ষ। তালের পত্রে অনেক উচু শিরা আছে। শিরাগুলো পত্রদন্ডের গোড়া হতে অগ্রভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত, পত্রের কিনারা কাঁটার মত। পত্রদন্ডের উভয় কিনারায় করাতের মত কালবর্ণের দাঁত আছে। পুরুষ ও স্ত্রী আলাদা গাছ উৎপন্ন হয়। বাংলাদেশের সব এলাকায় কমবেশী তাল উৎপাদন হলেও ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, গাজীপুর, রাজশাহী ও খুলনা এলাকায় সবচেয়ে বেশী উৎপাদন হয়। তালের কোন অনুমেদিত জাত নেই। তবে এদেশে বিভিন্ন আকার ও রংয়ের তাল দেখা যায়। আবার কোন কোন তাল গাছের বারমাসই কমবেশী তাল ধরে থাকে। পাইকগাছা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন মানব সন্তানের উপকারী বন্ধু তাল বৃক্ষ। বর্তমান সময়ে খুবই প্রয়োজন এ তাল গাছের।কপিলমুনির ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ কওসার আলী জানান,আমার এলাকায় প্রচুর নারকেল ও তাল বৃক্ষ রোপন করেছি এলাকা ঘুরলে বুজবেন।
প্রায় সব ধরনের মাটিতেই তাল ফসলের আবাদ করা যায়। তবে উঁচুজমিতে এবং ভারী মাটি ইহা চাষের জন্য বেশী উপযোগী। এদেশে বাগান আকারে কোন তাল ফসলের আবাদ নেই। আগষ্ট মাস থেকে তাল পাকতে শুরু করে এবং অক্টোবর মাস পর্যন্ত পাকা তাল পাওয়া যায়। ভালো তাল বীজ সংগ্রহ করে চারা তৈরী করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। তবে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য নির্বাচিত মাতৃবৃক্ষ হতে তালের বীজ সংগ্রহ করা উচিত।
দুই ভাবে তাল গাছ লাগানো যায়। একটি পদ্বতি হলো সরাসরি বীজ বপন করে অথবা বীজতলায় চারা উৎপাদন করে চারা রোপনের মাধ্যমে এর আবাদ করা যায়। ভাদ্র হতে কার্তিক মাস বীজ বপনের উপযুক্ত সময়। সারি থেকে সারি ৭ মিটার এবং চাবা থেকে চারা ৭ মিটার বীজের মাধ্যমে তালের বংশ বিস্তার হয়ে থাকে।
পাইকগাছার গদাইপুরে সততা নার্সারীতে তালের চারা তৈরীর জন্য গত বছর দেড় লাখ তাল বীজ বপন করা হয়। মাটির ২ ফুট উঁচু বেড তৈরী করে তালের বীজ বপন করা হয়। অংকুরিত বীজ মাটির নিচের দিকে বাড়তে থাকে। চলতি মৌসুমে মাটি খুড়ে বীজপত্র তুলে চটের তৈরী পলিব্যাগে রোপন করে চারা তৈরীর পরিচর্যা করা হচ্ছে। সততা নার্সারীর মালিক অশোক কুমার পাল জানান, বানিজ্যিক ভিত্তিতে তালের চারা উৎপদন করছে। গত বছর দেড় লাখ তালবীজ থেকে ৮০ হাজার তালের অংকুরিত বীজ রোপনসহ আনুসাঙ্গিক খরচ হয়েছে ৯ লক্ষ টাকা। এখনো চারা তৈরীর পরিচর্যার কাজ চলছে। মায়ের দোয়া নার্সারীর মালিক মো: ইউছুপ গাজী জানান, প্রায ৩২ হাজার চারা তৈরির প্রস্তুতি চলছে।২৫ হাজার চারা টিকতে পারে, সব আটি থেকে চারা বের হয় না। চারা তৈরি করতে তার প্রায় ছয় লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। উৎপাদিত তালের চারার প্রায় ১২ থেকে ১৪ লাথ টাকা বিক্রি হবে বলে তিনি আশা করছেন। চট্রগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন নার্সারী, এনজিও ও সরকারি ভাবে তালের চারা ক্রয়ের জন্য তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হযেছে। তাছাড়া উৎপাদিত তালের চারা সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বানিজ্যিক ভিত্তিতে বিক্রি করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
   
 

 


এ জাতীয় আরো খবর