চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে উজান থেকে নেমে আসা ভারতীয় ঢল ও বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পরিস্থিতির আরও উন্নতি হয়েছে। পানি কমতে শুরু করেছে পদ্মা,মহানন্দা,পূণর্ভবা,পাগলা সহ সকল নদ-নদীর। তবে এখনও পানিবন্দি নদীতীরের কয়েক হ্জাার পরিবার। তাঁদের দূর্ভোগ এখনও কাটেনি। গবাদিপশু নিয়ে বিপদে পড়েছেন অনেকেই। ঝুঁকি বেড়েছে বন্যা পরবর্তী রোগ-বালাইয়ের। এখনও নৌকা নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে পানি উঠে যাওয়া হচ্ছে নি¤œাঞ্চলে। এদিকে জেলায় অব্যহত বৃষ্টিপাত পানিবন্দি মানুষের দূর্ভোগ বাড়িয়েছে। এছাড়া নদীর পানি একবার নিচু এলাকায় প্রবেশ করলে নেমে যেতে সময় লাগে। এখনও পদ্মা তীরবর্তী সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
এ অবস্থায় সরকারি ত্রাণ হিসেবে প্রথম দফার চাল বিতরণ অব্যহত রয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) জেলা প্রশাসক আবু ছলেহ মো.মুসা জঙ্গী শিবগঞ্জ উপজেলার দূর্লভপুর ইউনিয়নে ত্রাণ বিতরণ করেন ও উপদ্রুত এলাকা ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি দূর্গত জনগণের পাশে থাকার কথা জানান।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড(পাউবো) সূত্র জানায়, সোমবার(১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পদ্মা বিপদসীমার ৪০ সে.মি উপরে ২১.৪ মিটারে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছিল। এর আগে শনিবার(১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পর্যন্ত পদ্মা বিপদসীমার ২৬ সে.মি নীচ দিয়ে প্রবাহিত হবার পর ২৪ ঘন্টা স্থির থেকে রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে কমতে শুরু করে । অপরদিকে মহানন্দা সোমবার সন্ধ্যায় ১৯.৪৪ মিটারে ও পূণর্ভবা ১৯.৫৫ মিটারে বিপৎসীমার নীচে প্রবাহিত হচ্ছিল।
২৪ ঘন্টা স্থির থাকার পর সোমবার সকাল থেকে নদী দুটির পানি কমতে শুরু করে। জেলা পাউবো উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আতিকুল ইসলাম বলেন, বন্যা পূর্বাভাষ ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আগামী ৫দিন পদ্মার পানি হ্রাসের পূর্বাভাষ দিয়েছে। আপাতত: নতুন করে পানি বৃদ্ধির শংকা নেই।
শিবগঞ্জের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা(পিআইও) মিজানুর রহমান বলেন, এ পর্যন্ত পাঁকা,দূর্লভপুর ও উজিরপুর ইউনিয়নে ২ হাজার ১৫০টি পরিবারকে একবার করে চাল দেয়া হয়েছে।
পাঁকা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক ৬০০ বাড়িঘরে পানি ঢুকে যাওয়া সহ ১ হাজার ৯শত পরিবার পানিবন্দি হবার তথ্য জানিয়েছেন। পাঠদান বন্ধ রয়েছে ৫ প্রতিষ্ঠানে। তিনি বলেন, পানি নামার সময় দূর্ভোগ বাড়ে। দূর্লভপুর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম আজম এখনও প্রায় ১০০০ পরিবার পানিবন্দি থাকা সহ কিছু বাড়িঘরে পানি উঠে আছে বলে জানান।তবে কিছু বাড়িঘর থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। বন্ধ রয়েছে ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
সদরের পিআইও শাহীনুর রহমান বলেন, নারায়নপুর ও আলাতুলী ইউনিয়নে প্রায় ১ হাজার ৮৫০ পরিবারকে চাল ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দেবার কথা জানিয়েছেন। পানি নেমে যাবার সময় গবাদিপশু ও মানুষজনের রোগবালাই বাড়ে জানিয়ে তিনি বলেন,এমন সমস্যা প্রকট হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ২ লক্ষ টাকার শুকনো খবার দেয়ার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি। তিনি উপজেলায় প্রায় ২ হাজার পারিবার এখনও পানিবন্দি হবার খবর দিয়েছেন। নারায়নপুর ইউপি চেয়ারম্যান নাজির হোসেন ৯টি প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ থাকার তথ্য জানিয়েছেন। মানুষ ও গবাদিপশুর রোগবালাইয়ের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর উপ-পরিচালক আতিকুর রহমান জেলাব্যাপী এখন ১ হাজার ৬০০ বিঘা জমি নদীর পানি বৃদ্ধিতে আক্রান্ত হবার তথ্য জানিয়ে বলেন, পানি কমতে থাকায় আর ফসল আক্রান্ত হয় নি।