“নিরাপদ সড়ক, সমৃদ্ধ দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আগামী ২২ অক্টোবর উদযাপিত হতে যাচ্ছে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬। দিবসটি সামনে রেখে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা), রাজশাহী জেলা শাখা প্রতিবছরের ন্যায় এবারো রাজশাহীতে মাসব্যাপী নানান কার্মসূচি গ্রহণ করেছে। বৃহস্পতিবার রাত্রি ৮.০০ ঘটিকায় রাজশাহীর লক্ষীপুরস্থ নিসচার জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গৃহীত কর্মসূচিগুলো ঘোষণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাজশাহী নগরীর ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা এখন সময়ের দাবি।
মাসব্যাপী ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সাংবাদিক সম্মেলন, ট্রাফিক ক্যাম্পেইন ও লিফলেট বিতরণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ কর্মশালা, সড়ক সাইন বা নির্দেশনা স্থাপন ও প্রয়োজনে দৃশ্যমানের ব্যবস্থাকরণ, ক্ষতিগ্রস্থ রাস্তা সংস্কারের বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ, দুর্ঘটনা বিষয়ক ভিডিও প্রদর্শনী, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বৃক্ষরোপণ, মেডিকেল ক্যাম্প, বাইকার ও পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময় ও প্রশিক্ষণ, ভালো ও দক্ষ চালককে সম্মাননা প্রদান, স্কুল শিক্ষার্থীদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, র্যালি ও মানববন্ধন, দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতদের পরিবারকে সহায়তা প্রদান, দোয়া মাহফিল ও মুক্ত আলোচনা, দরিদ্র শিশুদের বই-খাতা-কলম বিতরণসহ নানা আয়োজন। আগামী ৩১ অক্টোবর সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মাসব্যাপী এ কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটবে।
নিসচা, রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি এ্যাড. তৌফিক আহসান টিটুর সভাপতিত্বে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাসব্যাপী কর্মসূচি ও দাবীসমূহের লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনান সংগঠনটির সহ-সভাপতি প্রকৌ. জুনায়েদ আহমেদ।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এর পেছনে রয়েছে বেপরোয়া গতি, ট্রাফিক আইন অমান্য, চালকদের অসতর্কতা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অননুমোদিত ও ঝুঁকিপূর্ণ যান চলাচল, পথচারীদের অসচেতনতা এবং সড়ক ব্যবস্থাপনার নানা সীমাবদ্ধতা।
তাঁরা আরও বলেন, রাজশাহী নগরীর ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে অটোচালকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে লাইসেন্স প্রদান, আধুনিক ট্রাফিক সিগন্যাল চালু ও কার্যকর করা, ফুটপাত দখলমুক্ত করে পথচারীর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা, স্কুল-কলেজের সামনে জেব্রাক্রসিং ও স্পিডব্রেকার স্থাপন, অবৈধ যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন অটোরিকশা অপসারণ, শহরের বাইরের অটোরিকশার প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ, শিফটভিত্তিক লাল ও সবুজ চিহ্নিত অটোরিকশার নিয়ম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণ জোরদার করা, বাইকারদের জন্য হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ও আইন অমান্যকারী বাইকারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। সেই সাথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রয়াত জাহানারা কাঞ্চনসহ সড়কে নিহত সকল শহীদদের স্মরণ করে তাদের আত্মার শান্তি কামনা করা হয় এবং নিরাপদ সড়ক চাই এর প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের শারীরিক সুস্থতার জন্য দোয়া প্রার্থনা করে শেষ করা হয়।