মেঘেরা আজ নীলেশ্বরের ক্লান্ত রাজহাঁসের মতো
ভেসে আসে ধূসর নদীর উপর—
দিগন্ত জুড়ে তাদের নীরব পালক ঝরে পড়ে
অন্ধকার ঘাসের ভিতর;
আমার মন তখন কেঁপে ওঠে প্রাচীন শ্যাওলার গন্ধে।
বর্ষা আসে— কোনো এক অচেনা নারীর মতো
যার কেশে জড়ানো থাকে দক্ষিণের বাতাস,
যার আঁচলে ভিজে থাকে পথ, পুকুর, কুয়াশা,
আর দূরের বাঁশবনে দাঁড়িয়ে থাকে একাকী শালিকের ডাক।
জল পড়ে টুপটাপ—
টিনের চালে, কদমের পাতায়, স্মৃতির গভীরে;
আমি জানালার ধারে বসে দেখি—
কী অদ্ভুত সবুজ অন্ধকারে ডুবে যায় পৃথিবী,
যেন বহুকালের চেনা গ্রামটি আবার নতুন করে জন্ম নেয়।
ধানের ক্ষেতে জলের আয়নায় ভেসে থাকে মেঘের ছায়া,
শাপলা ফুলের নীচে ঘুমিয়ে পড়ে দিনের ক্লান্ত আলো;
কোনো এক অজানা পাখি ডেকে যায় দূরে—
হয়তো সে-ও খুঁজছে ফিরে তার হারিয়ে যাওয়া নীড়।
বর্ষা; তোমায় আমি ভালোবাসি—
কারণ তুমি এলে আমার ভিতরের সব ধুলো ধুয়ে যায়,
অতীতের সব ক্লান্তি, সব ব্যর্থতা, সব বিষণ্নতা
তোমার জলে ভাসে, ভেসে যায়, মিলিয়ে যায়।
কতদিন পরে দেখি—
একটি বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় পথের ধারের
একটি শিউলি গাছের নীচে দাঁড়িয়ে আছে একাকী আমি,
আর দূরে— অসীম মেঘের দেশে
নীরবে ভাসছে আমার সমস্ত দিনলিপি।।