কুড়িগ্রাম জেলা সদরের বেলগাছা ইউনিয়নের কালে গ্রামের তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ ইমরান ইসলাম আকাশ ওরফে মোনা চৌধুরী মানুষের বৈবাহিক জীবন উপলব্ধি করে। ভালো লাগে মানুষের বৈবাহিক জীবনের আচরণ। সঙ্গতঃ কারণে নিজে বিয়ে করে সংসারি হতে না পারার আক্ষেপে অন্যকে বিয়ে দেয়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে বিগত দেড়যুগের বেশি সময় ধরে ম্যারেজ মিডিয়া পেশার মাধ্যমে নিজে ৪হাজারের ঊর্ধ্বে বিয়ে দিয়ে মানুষের হৃদয় জয় করে নিয়েছেন। এখন তিনি মোনা ঘটক নামে পরিচিত।
উচ্চ শিক্ষিত মোনা চৌধুরী ছিলো মেধাবী। লেখাপড়ার দিকে মনোনিবেশন ছিলো প্রকট, তিনি ১৯৯৫ইং সালে খলিলগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উওীর্ণ হন। পরবর্তী মাধ্যমিক জীবনে ২০০৪ইং সালে খলিলগঞ্জ স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি, ২০০৬ইং সালে কুড়িগ্রাম কুড়িগ্রাম ভোকেশনাল স্কুল এন্ড কলেজে এইচএসসি এবং পরে ঢাকা তিতুমীর কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে কৃতিত্বের সঙ্গে অর্নাস ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপরে রংপুর আইন কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনে মোনা চৌধুরী ভারতের আসাম রাজ্যে বন্ধুর বিয়েতে গেলে মানুষের বৈবাহিক জীবনের আচরণ তাকে আকৃষ্ট করে।
সিদ্ধান্ত নেন তিনি সঙ্গতঃ কারণে নিজে বিয়ে করতে না পারলেও অন্যকে বিয়ে দিয়ে নিজে আনন্দ খুঁজবেন। এমন প্রত্যয় নিয়ে ভারত থেকেই বিবাহ বন্ধনে মিডিয়া হিসেবে কাজে আগ্রহ পান এবং জীবনের প্রথম বিবাহের ঘটক হিসেবে আসাম রাজ্যের ভগবানপুরে কালী- মন্দিরের প্রশান্ত দওের সঙ্গে কেয়া দওের বিবাহ দিতে সক্ষম হোন। এরপর নিজ দেশ বাংলাদেশে এসে বিবাব বন্ধন কাজে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। তিনি এ পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৩ শত ছেলে মেয়ের বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করতে সক্ষম হোন। এই দেখা শেষ দেখা ম্যারেজ মিডিয়া হিসেবে তাঁর প্রতিষ্ঠিত একটি মিডিয়া প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তার পরিবারের লোকজন তাকে এই পেশায় উৎসাহ প্রদান করছেন।
মনা চৌধুরীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, মানুষের জন্য আমি কাজ করছি এতে আমার অনেক ভালোলাগে। এমনকি যে সব ছেলে মেয়েদের বিবাহ দিচ্ছি তাদের দোয়া ও আশীর্বাদ আমাকে অনুপ্রাণিত করে। আমি যতদিন বেঁচে থাকব ততদিন এই পেশাকে আঁকড়ে ধরে সামনে এগিয়ে যাব।
এবিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মশিউর রহমান মন্ডল জানান, মানুষের বিবাহ বন্ধনে ইমরান ইসলাম আকাশ ওরফে মোনা চৌধুরী সমাজে বেকারত্ব না থেকে নিজেকে কর্মেব মধ্যে জীবন জীবীকা নির্বাহ করছেন যা অনেক সম্মানের।