সোমবার, জুন ২২, ২০২৬

হৃদয়ের লড়াইও রক্ষা করতে পারল না বাংলাদেশকে,টি-টোয়েন্টি সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার ধবলধোলাই

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • ২০২৬-০৬-২১ ২৩:৩১:১৮
ছবি: সংগৃহীত।

তাওহিদ হৃদয়ের একক প্রতিরোধ সত্ত্বেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে কোনো ম্যাচ জিততে পারল না বাংলাদেশ। চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে ৭ উইকেটের সহজ জয় তুলে নিয়ে সফরকারীরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে।
এর আগে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে যথাক্রমে ৪ উইকেট ও ৭ রানে পরাজিত হয়েছিল স্বাগতিকরা। তবে সীমিত ওভারের এই সফরে একমাত্র সান্ত্বনা হিসেবে ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ।
টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে এটি বাংলাদেশের অষ্টম দ্বিপক্ষীয় সিরিজ ধবলধোলাইয়ের ঘটনা। অতীতে নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তানের কাছে দুইবার করে এবং আফগানিস্তান, ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একবার করে এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছিল টাইগাররা।
টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ১১ রানে তিনটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। দুই ওপেনার তানজিদ হাসান ও সাইফ হাসান দ্রুত বিদায় নেন। পারভেজ হোসেন ইমনও ব্যর্থ হন।
দলের বিপদের সময়ে তাওহিদ হৃদয় দায়িত্বশীল ব্যাটিং করেন। নুরুল হাসান, রিশাদ হোসেন ও শরিফুল ইসলামের সঙ্গে ছোট ছোট জুটি গড়ে ইনিংসটিকে এগিয়ে নেন তিনি। অন্য প্রান্তে নিয়মিত উইকেট পড়তে থাকলেও একাই লড়াই চালিয়ে যান বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক।
শেষ দিকে তাসকিন আহমেদকে সঙ্গে নিয়ে নবম উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলের স্কোর তিন অঙ্কে নিয়ে যান হৃদয়। ৫১ বলে ৬১ রানের অপরাজিত ইনিংসে তিনি তিনটি চার ও তিনটি ছক্কার মার খেলেন। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এটি ছিল তার সপ্তম অর্ধশতক।
বাংলাদেশ নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করে মাত্র ১০৯ রান।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে স্পেনসার জনসন, নাথান এলিস ও অ্যাডাম জাম্পা দুটি করে উইকেট শিকার করেন।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে থাকে অস্ট্রেলিয়া। পাওয়ার প্লের মধ্যেই ৫৪ রান তুলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় তারা।
বাংলাদেশের বোলাররা মাঝে কয়েকটি সাফল্য পেলেও অস্ট্রেলিয়ার জয়ের পথ রোধ করতে পারেনি। অধিনায়ক মিচেল মার্শ ঝড়ো ব্যাটিংয়ে মাত্র ২৩ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন। তিনি ২৮ বলে ৬০ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন, যাতে ছিল সাতটি চার ও চারটি ছক্কা।
মার্শ আউট হওয়ার পরও সফরকারীদের জয় পেতে কোনো সমস্যা হয়নি। ম্যাট রেনশ ও টিম ডেভিড অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। মাত্র ১১ ওভারেই ৩ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য অতিক্রম করে অস্ট্রেলিয়া।
বাংলাদেশের হয়ে নাসুম আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও রিশাদ হোসেন একটি করে উইকেট নেন।
ব্যাট হাতে ঝড়ো ইনিংসের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কার পান মিচেল মার্শ। আর পুরো সিরিজে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে সিরিজসেরা নির্বাচিত হন ম্যাট রেনশ।
এই জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ জয়ের স্বাদ পেল অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে ওয়ানডেতে সাফল্যের পরও টি-টোয়েন্টি অধ্যায়ে হতাশাজনক সমাপ্তি ঘটল বাংলাদেশের।

বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া, হৃদয়, মার্শ, টি-টোয়েন্টি।


এ জাতীয় আরো খবর