শোভনা-
মাথার ভিতর মাছিদের ভনভনা,
বিমূর্ত চাঁদের আলোয় অন্য-কোনোখানে-
অন্যকারো ঘরে এখন তুমি তাই!
প্রাণেশ্বরী,
কোলকাতায় ট্রামে আর আসা-যাওয়া করো না?
পথভ্রষ্ট পথিক আমি শুধু হাঁটি আর হাঁটি,
নিখাদ-নির্ভেজাল বাংলার মাটি,
পলল-প্রবাহিত রাত্রির নির্জনতায় অলিগলিকান্দর,
কখনোবা বহুবর্ণিল কোলকাতার রাস্তায়;
শোভনা তুমিও কী তাই,
বিমূর্ত রাতের তারারা খসায় মাথার গিঁট,
বিহঙ্গ ডেকে ওঠে বিশুষ্ক জলাশয়,
তাপদাহ কণ্ঠ শুকায়-চেতনার আলোয়;
নির্বাক চেয়ে চেয়ে দেখি-
এই বুঝি এলে তুমি, আসো আর যাও,
আমার বুকের ভিতর তোলপাড়—
শুধুই তোমার আসা-যাওয়ার খবরা-খবর;
শোভনা রক্তের হিস্যা চাই,
তোমার দাদাবাড়ি আর আমার ঠিকানার তফাৎ নাই,
আমাদের ভিতরে এক প্রমত্তা পদ্মার বসবাস,
নির্ঘুম চোখে তাই তো বিক্রমপুরেই ছুটে যাই,
হেমবাবুর উঠান, দেবব্রত'র গান—
সিরাজদীখানের পাতক্ষীরসার মতো মনে হয়;
কোলকাতার গলিঘুপচির বাহার,
ট্রামের চাকার ঘর্ঘর—
ফিরে আসি আমার পুরনো ডেরায়,
লাফিয়ে ওঠে ড্রয়িং রুম—
পদ্মার ইলিশের উজানি ধারায়,
টেবিলে সাজানো বইয়ের পাতায় মনোযোগ নাই;
প্রতীক্ষার পরে যদি কোনো সুখ চাও!
শোভনা সেই তুমি—
দেয়ালে টাঙানো মোনালিসার হাসির ফোয়ারায়,
র্যোঁদা-মাতিস-ভ্যানগগ—
তোমাকে না দেখার অপমান,
অসহনীয় বেদনায় ডুব দেই পদ্মায়,
কামোদ-কুসুম তুমি মনরোর ঠোঁট—
শীতরাত্রির উষ্ণতায় আরাধ্য আমার যাপিত জীবন;