বৃহস্পতিবার, মে ২৮, ২০২৬

এ স এ ম আ জা দ হো সে ন

  • ঈদের সকাল
  • ২০২৬-০৫-২৭ ১২:০৪:৩৬

ফজরের আলো ফোটার আগেই
শহরের কংক্রিট দেয়ালে দেয়ালে
আজ অন্যরকম নরম এক শব্দ ভেসে আসে-
আল্লাহু আকবার,আল্লাহু আকবার।

মসজিদের পথে হাঁটে মানুষ,
কারও গায়ে সাদা পাঞ্জাবি,
কারও হাতে ছোট্ট সন্তানের আঙুল,
কারও চোখে লুকানো অশ্রু-
গত ঈদে যে বাবা ছিল,
এবার সে কেবল স্মৃতি।

পবিত্র ঈদুল আজহা আসে
শুধু নতুন কাপড়ের উৎসব হয়ে নয়,
এ আসে মানুষের ভেতরের পশুটাকে
কোরবানি করার আহ্বান নিয়ে।

যে মানুষ সারাবছর
মিথ্যার সঙ্গে আপস করে,
ঘুষের টাকায় সাজায় ড্রইংরুম,
অন্যের হক মেরে
নিজেকে সফল ভাবে-
তার উঠোনে যত বড় গরুই বাঁধা থাক,
আল্লাহ কি তাতে সন্তুষ্ট হন?

কোরবানি মানে তো
শুধু ধারালো ছুরির ঝলক নয়,
কোরবানি মানে-
অহংকার জবাই করা,
লোভকে কেটে ফেলা,
অন্যায়ের সামনে মাথা না নত করা।

আজও কত মা
ছেলের জন্য নতুন জামা কিনতে পারে না,
কত শিশু দূর থেকে শুধু দেখে
অন্যের ঈদের আনন্দ।
তবু সমাজের বড় বড় মানুষ
মাংসের ছবি তোলে,
মানুষের ক্ষুধার ছবি তোলে না।

হে মানুষ,
ঈদ যদি শুধু ভোজের নাম হয়,
তবে এত তাকবির কেন?
এত সিজদা কেন?
এত চোখের পানি কেন ঝরে আরাফাতের ময়দানে?

ইবরাহিমের শিক্ষা ছিল-
প্রিয় জিনিসও আল্লাহর জন্য ত্যাগ করা যায়।
আর আমাদের সমাজে আজ
মানুষ সত্য ত্যাগ করে,
মানবতা ত্যাগ করে,
বিবেক ত্যাগ করে
নিজেকেই কোরবানি দিচ্ছে অন্ধ লোভের কাছে।

এসো,
এই ঈদে আমরা
শুধু পশু নয়,
মনের অন্ধকারও কোরবানি করি।

যে ছেলে বৃদ্ধ বাবাকে ফেলে রাখে বৃদ্ধাশ্রমে,
সে যেন শেখে দায়িত্বের ধর্ম।
যে নেতা মানুষের ভোট নিয়ে
মানুষকেই ভুলে যায়,
সে যেন শেখে আমানতের ভয়।
যে ধনী পাশের ক্ষুধার্ত শিশুকে দেখে না,
সে যেন শেখে ভাগাভাগির সৌন্দর্য।

ঈদ মানে
এক টুকরো মাংস নয়,
একটি পরিশুদ্ধ হৃদয়।

ঈদ মানে
মানুষের পাশে দাঁড়ানো,
ভাঙা সম্পর্ক জোড়া লাগানো,
ক্ষমা চাওয়া,
ক্ষমা করে দেওয়া।

আজ চাঁদের নিচে
পৃথিবীর কোটি মুসল্লি
একই তাকবির তোলে-
লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক।

এই ধ্বনি যেন
শুধু মসজিদের দেয়ালে না থামে,
পৌঁছে যাক মানুষের বিবেকে,
রাষ্ট্রের নীতিতে,
সমাজের প্রতিটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে।

তবেই
পবিত্র ঈদুল আজহা
হবে সত্যিকারের ঈদ।


এ জাতীয় আরো খবর