বৃহস্পতিবার, মে ২৮, ২০২৬

এবারও কোরবানির চামড়ার দাম নিয়ে হতাশ চাঁপাইনবাবগঞ্জের খুচরা বিক্রেতারা

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৬-০৫-২৮ ১৮:৫৫:৩৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চামড়ার মূল্য বৃদ্ধিতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও এবারও কোরবানি পশুর চামড়ার মূল্য নিয়ে হতাশ চাঁপাইনবাবঞ্জের খুচরা বিক্রেতারা ( যারা গরু বা ছাগল কোরবানি দিয়েছেন)। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মূল্য পরিস্থিতি গত কয়েক বছরের তুলনায় সামাণ্যও উন্নতি হয়নি। ছাগলের  চামড়ার দাম প্রায় নেই বললেই চলে। আর গরুর চামড়া যে দামে বিক্রি হচ্ছে তাতে ক্ষোভ প্রকাশ করার ভাষাও হারিয়ে ফেলছেন বিক্রেতারা। এখন  কাঁচা চামড়ার মূল সংগ্রহকারী  মসজিদ-মাদ্রাসা সংশ্লিস্টরাও প্রচন্ড হতাশ। তবে খুচরা চামড়া ক্রয়কারীরা চামড়া ক্রয় শুরু করেছেন। মসজিদ ও মাদ্রাসাতেও চামড়া সংগ্রহ করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৮মে) দুপুরে  জেলার  প্রধান  কাঁচা চামড়া ক্রয়কারী জেলা শহরের ফকিরপাড়া এলাকায় গিয়ে  জানা যায়,আকৃতি ও রকমভেদে (বকন না আইড়াঁ গরু এবং খাসি না বকরি) গরুর চামড়া প্রতি পিস ২০০-৬০০ এবং ছাগলের চামড়া ২০-৪০ টাকা দামে খুচরা বিক্রেতাদের নিকট থেকে কেনা হচ্ছে। ফকিরপাড়ার চামড়ার আড়তের ত্রেতা ইমরান আলী(২৫) বললেন, এর চাইতে বেশি দামে কেনা  আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।  এদিকে বিক্রয় মূল্য এত কম যে, বিভিন্ন অঞ্চল থেকে চামড়া ফকিরপাড়ার আড়তে নিয়ে আসার ভ্যান ভাড়াও উঠছে না। এরপরও মানুষ চামড়া নিয়ে আসছেন এবং যে দাম পাচ্ছেন তাতেই বিক্রি করছেন। চামড়া  পারতপক্ষে কেউ নষ্ট করতে চান না। জুবাইর হোসেন(৪৫) নামে  শহরের হুজরাপুর মহল্লার ছাগলের চামড়া বিক্রি করতে আসা এক ব্যক্তি ব্যললেন, যত সামাণ্যই টাকা পাই না কেন, তার সাথে টাকা যুক্ত করে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী গরিবের হক আদায় করব।
জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, বানিজ্য মন্ত্রণালয় যে দাম নির্ধারণ করেছে সেই দরে আমাদের পক্ষে মাল কেনা সম্ভব নয়। ওই মূল্য বাস্তবসম্মত নয়। আন্তর্জাতিক বাজার বিবেচনা করে নির্ধারিত ওই মূল্যবাংলাদেশ ট্যানার্স এসোসিয়েশনও বাস্তবায়ন করতে পারছেনা। খুব কম ট্যানারী আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন। ফলে বেশিরভাগ ট্যানারী বেশি দামে মাল কিনতে পারে না।  চামড়া কিনে লেবার,লবন,গুদামজাত,সংরক্ষন ও পরিবহনে যে খরচ হয় তাতে ঢাকার বাইরের ব্যবসায়ীদের সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া কেনা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, সরকার এ বছর লবন দেয়া চামড়ার বর্গপুট প্রতি মূল্য বাড়িয়েছে। মফস্বলে গরুর চামড়ার মূল্য বর্গফুট প্রতি ৫৭-৬২টাকা। অপরদিকে খাসি ২৫-৩০ এবং বকরি ২২-২৫ টাকা।
চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির  সাধারণ সম্পদক মাসুম হোসেন বলেন,  কোরবানি সামনে রেখে লবনের দাম ৫০ কোিজর বস্তায় অন্তত: ১৫০ এবং ৭০ কেজির বস্তা অন্তত: ২০০  টাকা বেড়েছে। তিনি বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ব্যবসায়ীরা কোন লবন পানি নি। জেলার ৮৪টি এতিমখানা,লিল্লাহ বোর্ডিং(আবাসিক মাদ্রাসা) লবন পেয়েছে। ব্যবসায়ীরা কোন  ্ঋণও পান নি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সংগৃহীত চামড়া ঢাকার ট্যানারীগুলোতে বিক্রি করা হবে বলেও জানান ব্যবসায়ী নেতা মাসুম।
শহরের পাঠানাপাড়া জামে মসজিদ ইমাম ও ডা.আইয়ুব আলী হাফেজিয়া মাদ্রাসার পরিচালক  মো. আমানুল্লাাহ বলেন,সকাল থেকে মহল্লার চামড়া সংগ্রহ করছি। বিক্রির দামের খোঁজ নিচ্ছি। তবে দাম এবরাও খুবই হতাশাজানক।
এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক (৫৩বিজিবি) লে.কর্ণেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, চামড়া পাচার রোধে কঠোর অবস্থানে বিজিবি। তবে এখন পর্যন্ত পাচারের কোন খবর পাওয়া যায় নি। 

 


এ জাতীয় আরো খবর