আমার মনের গোপন ঘরে এসে প্রদীপ জ্বালিয়েছি,
দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে আমি চিঠি লিখতে বসলাম....
প্রত্যহ নিয়ম করে প্রদীপের কাঁপা কাঁপা, নিবুনিবু আলোয় চিঠি লিখে যাই।
আমার নীল কষ্ট, সবুজ কোমল সুখ,নির্মল আনন্দ,মর্মান্তিক অনুভূতি সবই লিখে যাই।
সেই চিঠিতে আমার রুক্ষ চুলে বিলি কেটে যায় দুঃস্বপ্নের হাত!
লিখে যাই নির্জন কান্নার শব্দে ভেসে আসা কোনো অচেনা অন্ধকার গলিপথে আমি ভীষণ একা!
যেন সরকারি গোরস্থানে কাঁদছে সঙ্গীহীন একাকী কোনো লাশ!
আঁচল ভরে শিউলি কুঁড়াবো শিশির ভেজা ভোরে, ভেবেছিলাম সুখস্বপ্নে!
সে আঁচল আজ ভর্তি হচ্ছে নির্মম সব অভিজ্ঞতায়!
ঢাকা শহরের শত শত রঙিন দোকান ঘুরেও আমি সুখ কিনতে পারিনি,
শুনেছিলাম টাকায় নাকি সব কেনা যায়!
সুতীক্ষ্ণ অনুযোগ হতে অব্যাহতি চাই!
নিজের শোকের চাদর গায়ে জড়াতে যে বড্ড ভারী লাগে আজকাল!
যার কাছে সুখের আশা ভরা চোখে তাকিয়ে আছি, সেই তো হাতে তুলে দেয় দুঃখের ভিন্ন ভিন্ন টিকেট!
সেই টিকেট আমার একার নামেই কাটা!
গন্তব্যে পৌঁছাবার পথ যে বড়ই দুর্গম মনে হয়।
আত্মার নিঃসঙ্গ স্বর আমার কাছে ভীষণ ভয়ঙ্কর মনে হয়!
দু'হাতে চেপে কান বন্ধ করলেও সেই শব্দ থেকে যেনো নিস্তার নেই!
মুখ থেকে শব্দ বের হয় ঠিকই, তবে যেনো তা কেবল আমিই শুনতে পাই!
কাঁপা হাতে তাই নিজেকেই চিঠি লেখি প্রত্যহ নিয়ম করে...
প্রিয় আমি,
তোমাকেই লিখে যাই আমার শত কোটি শব্দময়তায় লেখা আমার যত্নের চিঠিগুলো!
আমি ছাড়া কে আছে আর আমার আপনজন!
প্রেরক /প্রাপক তাই তো...
একান্ত আমার প্রিয় আমিই ।।
~সুইটি~