বুধবার, আগস্ট ২৬, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর আদলে বেসরকারি কার্ড তৈরি করে চাল বিতরণের অভিযোগ

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৬-০৪-২০ ১৯:৪৩:৩৩

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ধাইনগর ইউনিয়নে সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর কার্ডের ‘আদলে’ কার্ড তৈরি করে হাজার হাজার মানুষের নিকট থেকে টাকা নিয়ে চাল বিতরণের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে এ ধরণের বিতরণের ব্যাপারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জাননো হয়। সোমবার(২০্্ এপ্রিল) দুপুরে জেলা প্রেসক্লাবে ধাইনগর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
তিনি বলেন,এক বছরের বেশি সময় ধরে মেসার্স মাসকুরা ট্রেডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠান তাঁর ইউপির ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে সরকারি খাদ্যবান্ধব কর্মসূচী,ডিডব্লিউডি,মাতৃত্বকালীন ভাতা,নলকুপ স্থাপন,কৃষি উপকরণ বিতরণ সহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর কার্ড তৈরি করে ৪ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত  এককালীন জমা নিয়ে সে সব সুবিধা দিয়ে আসছে। সুবিধা গ্রহনের সময় মালের মূল্য বাবদ পৃথক টাকা নেয়া হয়। যেমন ৫ হাজার টাকা জমার কার্ডের জন্য প্রতিমাসে ৫০০ টাকা নিয়ে ৩০ কেজি চাল দেয়া হয়। ইদানিং কয়েকশ মানুষের নিকট থেকে ঘর করে দেয়ার জন্যও টাকা নেয়া হয়েছে বলেও শোনা গেছে।
চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা বহুল আলোচিত প্রতিষ্ঠানটির ব্যাপারে চেয়ারম্যান আরও বলেন,প্রতিষ্ঠানটি সড়ক তৈরিসহ জনহিতকর কর্মকান্ডের সাথেও জড়িত। শিবগঞ্জের বামুনর্গাঁও জাবড়ি কাজিপাড়া গ্রামের জাহির আলীর স্ত্রী এবং আবু তালেবের মেয়ে জেসমিন বেগম প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী। শুধু তাঁর ইউনিয়নেই প্রতিষ্ঠানের ১৫ থেকে ২০ হাজার গ্রাহক রয়েছে। তাদের নেটওয়ার্ক রয়েছে  সদর উপজেলা সহ  শিবগঞ্জের আরও কয়েকটি ইউনিয়নে।  
চেয়ারম্যান বলেন, এখন প্রতিষ্ঠানটি যদি হঠাৎ ‘উধাও’ হয় তবে হাজার হাজার গ্রাহক কোটি কোটি টাকা প্রতারণার শিকার হবেন। সময় থাকতে ব্যবস্থা না নিলে  অনেক এনজিওর মত ওই প্রতিষ্ঠান কর্তৃক মানুষের ক্ষতি হতে পারে,প্রতারণার শিকার হতে পারেন বিবেচনায় সম্প্রতি ইউপি কর্তৃপক্ষ  প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করেছে এবং  সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি কর্তৃপক্ষের নজরে বিষয়টি  আনা হয়েছে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, তিনি কোনভাবেই প্রতিষ্ঠানটির সাথে কখনও জড়িত ছিলেন না।
এ ব্যাপারে বারবার মুঠোফেনে যোগাযোগ করেও জেসমিন বা তাঁ প্রতিষ্ঠানের কারও সাথে  কথা বলা যায় নি। তবে ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তিনি এসবকে তাঁর ‘ব্যাক্তিগত ব্যবসা’ দাবি করেছেন। তিনি বলেন, চালকল, চেক নিয়ে গ্রাহকের ব্যাংকে রাখা জমা টাকা সহ বিভিন্ন উৎস থেকে তিনি  কমদামে চাল  সংগ্রহের টাকা পান।
এ ব্যাপারে শিবগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম বলেন, সরকারি কার্ডের আদলে কার্ড তৈরী কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকান্ডের ব্যাপারে জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তার রিপোর্ট পাওয়া গেলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ওই প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক সদর উপজেলার বারিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের অসুস্থ আনোয়ার হোসেন দম্পতি বলেন, তাঁরা  লতিফ চেয়ারম্যানের  সাহায্যে ৫ হাজার টাকা জমা দিয়ে মাসিক ৫০ (পঞ্চাশ) টাকায় ৩০ কেজি চালের একটি কার্ড পেয়েছিলেন। ৬ মাস  খাবার যোগ্য চালও তাঁরা পান। কিন্তু গত মার্চ মাসের ২৬ তারিখ কার্ডটি  নিয়ে নেয়া হয়। তবে আবার এটি এই মাসে চালু হবে বলে শুনেছেন। তাঁরা নলকুপের জন্য প্রতিষ্ঠানের  কর্মচারী মৃদুল হোসেনকে ৮ হাজার টাকা পৃথকভাবে দিয়েছেন। তবে এখনও নলকুপ পান নি।

 


এ জাতীয় আরো খবর