চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে আঘাত হেনেছে মৌসুমের প্রথম শিলাবৃষ্টি। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়,গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) হঠাৎ করেই বিকাল ৪টার পর থেকে হালকা বৃষ্টির সাথে হালকা শিল পড়তে শুরু করে। সোয়া ৪টা নাগাদ মাঝারি শিলাবৃষ্টি শুরু হয় যা ক্রমান্বয়ে কোথাও কোথাও মাঝারি বৃষ্টির সাথে ভারী শিলাবৃষ্টিতে রুপ নেয়। কোন কোন স্থানে শিল পড়ে সাদা চাদর হয়ে যায় মাটি। সাড়ে ৪টার পর শিলাবৃষ্টি কমতে থাকে এবং ৫টা নাগাদ বৃষ্টি ও সাথে শিলপড়া থেমে যায়। এলাকা ভেদে জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ১৫ থেকে প্রায় ২৫ মিনিট পর্যন্ত হালকা থেকে ভারী শিল পড়েছে। শিলে প্রাথমিকভাবে জেলার ৭ হাজার ১৩৯ হেক্টর জমির ফসল আক্রান্ত হবার কথা জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। শিল পড়ার সময় সহ বুধবার(৮ এপ্রিল) সকাল পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘন্টায় জেলায় গড়ে ৯.৪ মি.মি বৃষ্টিপাত হয়েছে ।
এদিকে ব্যাপক শিলাবৃষ্টির পর জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল আম এবং মাঠে শিষ ফুটতে থাকা বোরো-ইরি ধান এবং জমিতে থাকা অল্প পরিমানের গম,বুট,যব.মসুর,খেসারী,পান,সব্জি,পেঁয়াজের মত রবিশষ্য নিয়ে ক্ষতির শংকা করছেন কৃষকরা। তাঁদের, দাবি আমের ক্ষতি নিশ্চিত। শিলাবৃষ্টির সময়ই ঝরে গেছে প্রচুর আম গুটি। গাছের নীচে বিছিয়ে পড়ে গুটিগুলো। আনেক গুটি ফেটে যায়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. ইয়াসিন আলী বলেন,মাঠ থেকে পুরো খবর আসার পরই ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ও করণীয় বলা যাবে। প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযাযী ৫ হাজার ৪৫১ হেক্টর জমির আম ও ১ হাজার ৫৩৬ হেক্টর জমির ধান আক্রান্ত হয়েছে। ১৫২ হেক্টর জমির সব্জিসহ অন্য ফসল আক্রান্ত হয়েছে।
তিনি বলেন জেলার পাঁচ উপজেলাতেই শিলাবৃষ্টি হয়েছে। বেশি হয়েছে শিবগঞ্জ এবং কম হয়েছে ভোলাহাট উপজেলায়। সদরের চরাঞ্চলে শিলাবৃষ্টি তেমন হয় নি। বিছিন্নভাবে বিভিন্ন এলাকায় কমবেশি শিল পড়ায় খুব বেশি ক্ষয়ক্ষতি হবে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হয় না। তবে মাঠ থেকে রিপোর্ট আসলে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যাবে। তবে আমে কিছু ক্ষতি হতে পারে। যে সব গমে পানি পড়েছে সেগুলো বীজের জন্য রাখা যাবে না। তিনি আরও বলেন, বৃষ্টির পানি সব ফসলের জন্য উপকারী হবে।
সদর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বলেন, আম ও ধানে দ্রুত ছত্রাকনাশক দিয়ে ক্ষতি কমানো যায়। তবে সবস্থানে এর প্রয়োজন নাও হতে পারে। আবার রোদ উঠে আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে ক্ষতি কম হবে। এরপরও আমের ক্ষতি হবে বলে তিনি স্বীকার করেন।
সদরের বিদিরপুর গ্রামের আমচাষী বিষু মিয়া(৬০) বলেন, এবার আমের গুটি মুকুলের তুলনায় অনেক কম। এর উপরে শিলাবৃষ্টিতে গুটি আমের বড় ক্ষতি হবে। কয়েকদিনে ঝরে যাবে বেশিরভাগ আঘাতপ্রাপ্ত আম। আমে দাগ হবে। ফলন কমবে। আমচাষীদের মনে ফলন নিয়ে শংকা তৈরী করেছে এই শিলাপাত।
সদরের রামকৃষ্টপুর গ্রামের আমচাষী মন্টু হাজী(৬৫) বলেন, শিল কোন গাছপালা বা ফসলের জন্যই ্উপকারী নয়। নিশ্চিতভাবে ক্ষতিকর। বৃষ্টি আমের জন্য উপকারী তবে আমের গুটি ছোট থাকায় ক্ষতি কম হতে পারে। তবু চিন্তিত হয়ে পড়েছেন আম সংশ্লিষ্টরা।
সদরের গোহালবাড়ির ইরিচাষী আব্দুল মান্নান (৫৫) বলেন, ২৮ জাতের ধানের শীষ ফুটে গেছে। কিছু ধানের পোটে শীষ। এসব ধানের কমবেশি ক্ষতি হতে পারে। তবে বৃষ্টি ধানের জন্য উপকার বয়ে আনবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়,জেলায় ৪৭ হাজার ৭৬৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষমাত্রা আম উৎপাদন এলাকা হল ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর। উৎপাদন লক্ষমাত্রা ৪ লক্ষ ৫৮ হাজার ৯১২ টন। গম চাষ হয়েছে ৩১ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে যার ৮০ শতাংশের বেশি কাটা-মাড়াই সম্পন্ন হয়েছে।