বুধবার, এপ্রিল ১, ২০২৬

বটিয়াঘাটায় লোকজ-এর ধানের নতুন জাত উদ্ভাবনে ব্রিডিং প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

  • পলাশ দাশ
  • ২০২৬-০৩-৩০ ২১:২৬:১১

খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার মাছালিয়া গ্রামে ধানের নতুন জাত উদ্ভাবনের লক্ষ্যে দুই দিনব্যাপী ব্রিডিং প্রশিক্ষণ সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৯-৩০ মার্চ ২০২৬ তারিখে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা লোকজ আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে এলাকার আগ্রহী কৃষকরা অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য ছিল নতুন ধান জাত উদ্ভাবনে কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এ বিষয়ে তাদের মধ্যে সচেতনতা ও ঐক্যমত গড়ে তোলা।
প্রশিক্ষণটি সম্পূর্ণ হাতে-কলমে পরিচালিত হয়, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা ধানের লাইন উদ্ভাবনের বিভিন্ন ধাপ বাস্তবভাবে অনুশীলন করেন। চলতি বোরো মৌসুমে অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণে সহায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অভিজ্ঞ ব্রিডার কৃষক শ্যামল সরকার, আশীষ মণ্ডল ও বাসুদেব মণ্ডল। এছাড়া লোকজ-এর সমন্বয়কারী পলাশ দাশ, কর্মসূচি কর্মকর্তা মিলন কান্তি ম-ল এবং দিপংকর কবিরাজ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন।
প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে কৃষকরা ৫-৭ দিন আগে নিজ নিজ পছন্দমতো ধানের ফাদার ও মাদার জাত নির্বাচন করে টব বা বালতিতে চারা তুলে প্রস্তুত রাখেন। প্রথম দিনে ধানের ব্রিডিং সংক্রান্ত তাত্ত্বিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকালে অংশগ্রহণকারীরা ধানের ইমাসকুলেশন বা পুংকেশর অপসারণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। দ্বিতীয় দিন সকালে পলিনেশন বা পরাগায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
ইমাসকুলেশন ও পলিনেশনকৃত শীষগুলোকে সুরক্ষার জন্য ট্রেসিং পেপারের ক্যাপ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়, যাতে বাইরের পরাগায়নের প্রভাব না পড়ে। প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামী ২৮ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে এভাবে অপত্য বংশধর বা এফ-০১ বীজ পাওয়া যাবে। এই এফ-০১ বীজ পরবর্তী সময়ে চাষ, জাত বাছাই ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি প্রায় ১০টি মৌসুম মাঠ গবেষণার ফল হিসেবে নতুন ধান জাত উদ্ভাবনের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
এ ধরনের প্রশিক্ষণ কৃষকদের মধ্যে উদ্ভাবনী চর্চা বাড়াতে এবং স্থানীয়ভাবে উপযোগী ধান জাত উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
 


এ জাতীয় আরো খবর