বুধবার, এপ্রিল ১, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিশুদের মাঝে হামের প্রাদুর্ভাব,তিন মাসে রাজশাহীতে রেফার্ড চারজনের মৃত্যু

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৬-০৩-৩০ ২১:২২:৪৫

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিশুদের  মাঝেও  মারাত্মক চোঁয়াচে হাম ( মিসেলস) রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত জানুয়ারী থেকে  মার্চ পর্যন্ত ৩ মাসে রোগিরা দেহে র‌্যাশ, জ¦র,হাঁচি,সর্দি,কাশির সাথে সাথে নিউমোনিয়ার মত উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালে। চেম্বারেও চিকিৎসকের শরানাপন্নও হচ্ছে। রোগের উপসর্গের মধ্যে মারাত্মক হচ্ছে নিউমোনিয়া বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এই ৩ মাসে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড চাঁপাইনবাবগঞ্জের  সন্দেহজনক হামাক্রান্ত চারজন শিশু মারা গেছে। জেলায় শিবগঞ্জ উপজেলায় এই রোগে আক্রান্তের হার বেশি বেল জানা গেছে। জেলা হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে এখন ভর্তি ৮৯ জন ।
জেলা হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, গত জানুয়ারীতে ২ এবং ফেব্রুয়ারীতে ৩ জন  রোগি ভর্তি হলেও হঠাৎ করেই মার্চে রোগি বেড়ে গেছে। মার্চে এ পর্যন্ত প্রায় পৌনে ৩ শত রোগি ভর্তি হয়েছে যাদের বেশিরভাগের বয়স ৫ বছরের নীচে। বর্হি:বিভাগেও প্রতিদিন রোগি আসছে।  আড়াইশ শয্যার হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে শয্যা ২২টি। এখন সেখানে ভর্তি  শুধু  হামের রোগি ৮৯ জন। ওয়ার্ডের  মেঝেতেও স্থান সংকুলান না হওয়ায় চালু না হওয়া ডায়ালাইসিস ইউনিটকে আইসোলেশন কর্ণার করে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসক ৩ জন। তবে অন্য চিকিৎিসকরাও এখন কাজ করছেন। নার্সের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। ঈদের পর রোগি বেশি  আসছে। শিশু ওয়ার্ডের  উপর চাপ বহুগুন বেড়েছে। পরিস্থিতি উর্ধতণ কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে। সংকটাপন্ন রোগিকে রাজশাহী পাঠানো হচ্ছে।
হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. মশিউর রহমান বলেন, হঠাৎ করে খারাপ হওয়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করা হচ্ছে।  তবে আতংকিত হয়েও অনেকে ভর্তি হচ্ছে যাদের চিকিৎসা বাড়িতেও করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন,হামের টিকা ৯ মাস  বয়স থেকে দেয়া হয়। তবে ভর্তি রোগিদের বড় অংশ ৯ মাসের নীচের হওয়ায়  তারা এখনও টিকার আওতায় আসে নি। মাঝে আবার কিছুদিন টিকা সরবারহে ঘাটতি ছিল। হাসপাতালের  আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা(আরএমও) ডা. আাব্দুস সামাদ বলেন, হাসপাতালে হঠাৎ এই চাপ সামলানোর মত জনবল নেই। মোট বরাদ্দ পদের ৫২ শতাংশ খালি। তারপরও পরিস্থিতি  সামলাতে সকলে  একযোগে কাজ করছেন।
সিভিল সার্জন ডা. এ.কে.এম সাহাবুদ্দীন বলেন, জানুয়ারী থেকে এ পর্যন্ত  ২৬৬ জন শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে  (সাসপেকটেড) জেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৫ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হলে ২০ জনের পজিটিভ এসেছে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত ছিল এই চিত্র। হামের নমুনা পরীক্ষা সময় সাপেক্ষ।  তিন মাসের মধ্যে বেশি রোগি আক্রান্ত হয়েছে চলতি মার্চ মাসে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের কোন হাসপাতালে এখনও কোন রোগি হামজনিত জটিলতায় মৃত্যুবরণ করে নি। তবে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা চারজন চাঁপাইনবাবগঞ্জের রোগি মারা গেছে। সিভিল সার্জন আরও বলেন, অবস্থা মহামারী বলা না গেলেও  একেবারে নিয়ন্ত্রণে এমনটি নয়। আক্রান্ত শিশুদের ভিটামিন এ খাওয়ানো হচ্ছে। আক্রান্তদের আশাপাশের শিশুদের প্রচলিত চিকিৎসার পাশপাশি (লক্ষণ অনুযায়ী) ভ্যাকসিনেশনের (যারা আগে ভ্যাকসিনের আওতায় আসে নি) আওতায় আনা হচ্ছে। সামানে এপ্রিলে  ভ্যাকসিনের  ক্যাম্পেইন হবার কথা ছিল। তবে তা এপ্রিলে না হয়ে মে বা জুন মাসে হবে। পারিস্থিতির দিকে  সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে। 


এ জাতীয় আরো খবর