বুধবার, আগস্ট ২৬, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে টানা সাড়ে ৪ মাস পর বৃষ্টি,গুটি হওয়া আমের মুকুলে স্বস্তি

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৬-০৩-১২ ২১:১৯:০৯

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ
২০২৫ সালের পহেলা নভেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জুড়ে গত অন্তত: ২৩ বছরের রেকর্ড ভেঙ্গে সদর উপজেলায়  ২৬০ মি.মি সহ জেলায় নজিরবিহীন ১৯১ মি.মি গড় বৃষ্টির পর টানা প্রায় সাড়ে ৪ মাস প্রায় সম্পূর্ণ বৃষ্টিহীন ছিল জেলা।  টানা এই বিরতির পর বহু কাঙ্খিত বৃষ্টি হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। বৃহস্পতিবার(১২ মার্চ) গড়ে ৪ মি.মি বৃষ্টি হয়েছে জেলা জুড়ে। গত বুধবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে হালকা বাতাস ও  বজ্রসহ শুরু হবার পর  বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত কয়েক দফায় থেমে থেমে সদরে ১,শিবগঞ্জে ১,গোমস্তাপুরে ১৫,নাচোলে ২ এবং ভোলাহাটে ১ মি.মি বৃষ্টি রেকর্ড করে কৃষি বিভাগ।  আকাশে এখনও রয়েছে মেঘ। বইছে হালকা বাতাস।
শীতের শেষে গত কয়েকদিনের অস্বস্তিকর ভ্যাপসা গরমের সাথে সকালের কুয়াচ্ছন্ন আবহাওয়া এবং দিনব্যাপী ঘোলাটে রোদের আবহাওয়ার মধ্যে হালকা এই বুষ্টি কিছুটা  প্রশান্তি এনেছে জনজীবনে।  এদিকে আমের রাজ্যজুড়ে গাছে গছে রয়েছে ভরা মুকুল। অস্বাভাবিক এই আবহাওয়ায়  কিছু মুকুল নষ্ট (স্থানীয় ভাষায় জ¦লে বা পুড়ে যাওয়া)  হবার কথা জানিয়েছেন আমচাষীরা। ফাল্গুন শেষের গুমোট অবস্থা কাটাতে সুন্দর বৃষ্টির প্রত্যাশা করছেন তাঁরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, জেলায় চলতি মৌসুমে  ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমির ৯২ লক্ষ ৪৪ হাজার ৭৬৫ গাছ থেকে ৪ লক্ষ ৫৮ হাজার ৯১২ আম উৎপাদন লক্ষমাত্রা নির্ধারণ  হয়েছে। সবঠিক থাকলে উৎপাদন লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে। কৃষকরা বলছেন, সে ক্ষেত্রে সারা দেশে এবার মুকুলের যে অবস্থা তাতে আম উৎপাদন খরচ অনুপাতে মোটেই লাভজনক হবে না। এ জন্য অনেকেই আম  চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। কেটে ফেলে হচ্ছে বাগান। তবে পাকা আম পুরোদমে উঠতে এখনও প্রায় ৩ মাস। শেষ পর্যন্ত উৎপাদন কেমন হয় তা বলা এখন সম্ভব না। এদিকে গত ২০২৫ সালে জেলা থেকে  মাত্র ১৫৩ টন আম রপ্তানী হয়েছে। গত ২০২৩ সালে জেলা থেকে সর্বোচ্চ ৩৭৬ টন আম রপ্তানী হয়েছিল। কাঁচা ও পাকা আম রপ্তানী নিয়ে সারা বছর  বিশেষ করে প্রচলিত মৌসুমে অনেক কথা হলেও এখনও তেমন কোন কাজ হয় নি বলে  অভিযোগ করেছেন চাষীরা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড, ইয়াসিন আলী বলেন,জেলায় এবার প্রায় শতভাগ গাছেই মুকুল এসেছে। আর বৃষ্টিও হয়েছে গুটি আসার মূহুর্তে। এই বৃষ্টি শুধু প্রস্ফুটিত মুকুল ছাড়া সব ধরণের মুকুল,গুটি এমনকি সকল ফসলের জন্য ভাল ফল বয়ে আনবে।
সদর উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বলেন, এই সময় আমগাছে হপার পোকা ও ছত্রাক (ফাংগাস)  আক্রমণ হয়। এটি রোধ করতে ছত্রাকনাশক স্প্রে করা যেতে পারে।  হপারের আক্রমনে কিছু  এলাকার গুটি কেটে যাওয়ার কিছু খবর পাওয়া গেছে। তবে সার্বিক অবস্থা এখন পর্যন্ত ভাল। তিনি বলেন,বৃষ্টিকে  স্বাগত জানিয়েছেন সকল কৃষক।
সদর উপজেলার রাকৃষ্টপুর গ্রামের পেশাদার আমচাষী মন্টু  মিয়া (৬৫) বলেন, বৃষি আরও হওয়া দরকার। এই বৃষ্টি আমের উপকার করবে। তিনি বলেন, আম উৎপাদন এখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া নাবি বা নামলা (লেট ভ্যারাইটি) জাতের আম সারা বছর উৎপাদিত হচ্ছে এবং  ১০০-৩০০ টাকা কেজিতে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।  এছাড়া আম বাজারে যখন ওঠে তখন  লিচু,জাম,এমনকি কাঠাল সহ অনেক রকম মৌসুমী ফল বাজারে থাকে। বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় ওইসব ফল বহুদিন াবাজার মাতায় । ফলে আমের ওই রাজত্ব এখন কম। অনেক কথা হলেও   সংরক্ষনাগার বা প্রক্রিয়াজাতের তেমন শিল্প গড়ে ওঠেনি।
সদর উপজেলার বিদিরপর গ্রামের আমচাষী বিষু আলী(৬০) বলেন, বৃষ্টি কাঙ্খিত।  গত কয়েক দিন সকালের ‘মহা’তে (রোগ সৃষ্টিকারী ও হপার পোকার আক্রমন সহায়ক কুয়াশা) ক্ষতি হয়েছে। মুকুল কেটে জ¦লে গেছে (গুটি হয় নি)। আম চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকরা এমন হতাশার কথা জানান তিনি।
নিউমার্কেটে রোজায়  বারোমাসি কাটিমন জাতের  আম ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানান আম বিক্রিকারী আব্দুস সাত্তার। তিদনি বলেন, কাটিমন সারা বছর ১০০-৩০০ টাকার মধ্যেই পাওয়া যায়।


এ জাতীয় আরো খবর