শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬

আগামীকাল ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন, পাইলট প্রকল্পে ৩ লাখ ২০ হাজার পরিবারকে সহায়তা

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৩-০৯ ১৫:৩১:২৬
ছবি: সংগৃহীত।

রাজধানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি মাঠে আগামীকাল সকাল ১০টায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সময়ে দেশের আরও ১৪টি স্থানে একযোগে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে।
পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির আওতায় মোট ৩ লাখ ২০ হাজার পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে প্রথম ধাপে আগামী জুন মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ৪০ হাজার অভাবী পরিবারের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি মাসে প্রথম পর্যায়ে ১০ হাজার পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে এপ্রিল মাসে আরও ১০ হাজার, মে মাসে ১০ হাজার এবং জুন মাসে বাকি ১০ হাজার পরিবারকে কার্ড দেওয়া হবে।
সরকার জানিয়েছে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে সরাসরি আর্থিক সহায়তা দিতে পরীক্ষামূলকভাবে এই উদ্যোগ চালু করা হচ্ছে।
ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় প্রত্যেক পরিবারকে মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। সরকারি কোষাগার থেকে এই অর্থ সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে।
এছাড়া ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর বিদ্যমান কার্ডকে ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। একই স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করে ওটিপি যাচাইকরণের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্য সহায়তা নেওয়া যাবে। ভবিষ্যতে শিক্ষা উপবৃত্তি ও কৃষি ভর্তুকির মতো সুবিধাও এই কার্ডের মাধ্যমে দেওয়া হবে।
নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে কার্ডটি পরিবারের ‘মা’ বা নারী প্রধান সদস্যের নামে ইস্যু করা হবে।
নীতিমালায় কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে সাতটি শ্রেণির মানুষকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন— ভূমিহীন, গৃহহীন, প্রতিবন্ধী সদস্যের পরিবার, হিজড়া, বেদে, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবার এবং দশমিক ৫ একর বা এর কম জমির মালিক।
অন্যদিকে, পরিবারের কেউ সরকারের পেনশনভোগী হলে, বাড়িতে এসি ব্যবহারকারী থাকলে, গাড়িসহ বিলাসবহুল সম্পদের মালিক হলে, পরিবারের সদস্য সরকারি চাকরিজীবী হলে, বাণিজ্যিক লাইসেন্স থাকলে কিংবা বড় ব্যবসা থাকলে তারা এই সুবিধার আওতার বাইরে থাকবেন।
নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি কোষাগার থেকে সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানো হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান টিসিবি কার্ডকে ফ্যামিলি কার্ডের ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের সামাজিক নিরাপত্তা বাজেটকে জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এদিকে ঈদের আগেই সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার কুলঞ্জ ইউনিয়ন-এর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর সুরিয়ারপাড়, হাতিয়া রাধানগর ও আকিলশাহ গ্রামে পাইলট প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হচ্ছে।

কী-ওয়ার্ড:ফ্যামিলি কার্ড,সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি,দরিদ্র পরিবার সহায়তা


এ জাতীয় আরো খবর