ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে সহায়তা দিতে একটি বিশেষ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। ইউক্রেনের সামরিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বুধবার ৪ মার্চ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, গোয়েন্দা সংস্থা ও জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা পরিষদের সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে-যাতে ইউক্রেনের নিজস্ব প্রতিরক্ষা দুর্বল না করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে সহায়তার কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায়। তিনি বলেন, ইউক্রেনীয় সামরিক বিশেষজ্ঞরা সরাসরি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করবেন এবং সমন্বয় প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে।
জেলেনস্কির দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান এক হাজারের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৪০০-এর বেশি আক্রমণাত্মক ড্রোন ব্যবহার করেছে, যার প্রভাব হরমুজ প্রণালীর নৌচলাচল ও বিশ্ববাজারে তেল-গ্যাসের দামে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের তৈরি শাহেদ ড্রোন রাশিয়াও ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহার করেছে এবং চার বছর ধরে এসব ড্রোন প্রতিহত করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে কিয়েভ।
এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে জেলেনস্কি গতকাল সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের নেতাদের সঙ্গে এবং আজ জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। আলোচনায় ইরানি হামলার কৌশল ও প্রতিরোধের উপায় নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি প্রস্তাব দিয়েছেন, উপসাগরীয় দেশগুলো যদি রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে অন্তত এক মাসের যুদ্ধবিরতিতে রাজি করাতে ভূমিকা রাখে, তবে ইউক্রেন তার শীর্ষ ড্রোন-প্রতিরোধ বিশেষজ্ঞদের পাঠাতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে ড্রোন-ইন্টারসেপ্টর সরবরাহের বিনিময়ে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা বা অন্যান্য সামরিক সহায়তার সম্ভাবনাও উত্থাপন করা হয়েছে।
কী-ওয়ার্ড:জেলেনস্কি উদ্যোগ,ইরানি ড্রোন হুমকি,উপসাগরীয় নিরাপত্তা