বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মহান আল্লাহর ইচ্ছা ও জনগণের ভালোবাসায় সরকার গঠন করতে পারলে প্রথম দিন ফজরের নামাজ আদায় করেই রাষ্ট্র পরিচালনার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করা হবে। সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি এ ঘোষণা দেন।
ভাষণের শুরুতে তিনি জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়া এবং দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবসান। মানবাধিকার, ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের প্রতিবাদ থেকেই জনগণের এই আন্দোলন গড়ে ওঠে।
তিনি বলেন, দেশের তরুণ সমাজ এখন ‘নতুন বাংলাদেশ’ বা ‘বাংলাদেশ ২.০’ দেখতে চায়। জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে থাকলেও একটি গোষ্ঠী সেই পরিবর্তন রুখে দিতে চায়, কারণ পরিবর্তন হলে তাদের অন্যায় সুবিধা ও অপকর্মের পথ বন্ধ হয়ে যাবে। তার দাবি, প্রকৃত পরিবর্তন আনার সক্ষমতা একমাত্র জামায়াতে ইসলামীরই আছে।
জামায়াত আমির বলেন, তরুণরাই দেশের ভবিষ্যৎ শক্তি। তাদের সাহস, মেধা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণাবলিকে কাজে লাগিয়েই নতুন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। তিনি জুলাই আন্দোলনের মতো ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ পুনর্গঠনে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর কিছু সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হলেও অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার এখনও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। এসব সংস্কার স্থায়ীভাবে বাস্তবায়নের জন্যই জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন করা হয়েছে। এ সময় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে সততা, ইনসাফ, সুশাসন ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হবে। দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, চাঁদাবাজি ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
নারীদের অধিকার ও মর্যাদা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নারীর নিরাপত্তা ও সম্মান নিশ্চিত না হলে সমাজের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারীরা সমান মর্যাদায় সমাজ ও রাষ্ট্রের নেতৃত্বে অংশগ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস দেন তিনি।
ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের দেশ। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে নির্যাতনের সুযোগ দেওয়া হবে না। পাশাপাশি বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থ ও মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমমর্যাদার ভিত্তিতে বৈদেশিক সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের কথাও উল্লেখ করেন জামায়াত আমির।
ভাষণের শেষাংশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষায়, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব কোনো ভোগের বিষয় নয়, এটি জনগণের পক্ষ থেকে দেওয়া একটি আমানত।
কী-ওয়ার্ড:জামায়াত আমির,জাতির উদ্দেশে ভাষণ,নির্বাচনী অঙ্গীকার