জানালায় বসে আছে শ্রীজা। আজকের আকাশটা কেমন জানি থমথমে।প্রকৃতি যেন তার মনের রঙে আকাশটাকে রাঙিয়ে দিয়েছে।
মৃদু হাওয়ায় উড়ে যাচ্ছে ওর রূপালী ছোঁয়া লাগা চুলগুলো।ও ভাবছে ....কত সহজে সবকিছু ধীরে ধীরে বদলাতে থাকে,একটা বিশেষ দিন আজ।ঐ দিনে অশোক নিজে থেকেই কিছু একটা অভিনব করত,তার রেশ সারা বছর ওর মনে লেগে থাকত।
কিন্তু বাস্তবতার নিষ্ঠুর প্রকৃতি আর রোজকার টানাপোড়েনে এসব যেন আজ ক্যানভাসে রং হারানো ছবি।কান্নার ঢেউটা ভাবনার সাগর থেকে লাফিয়ে চোখে আসতে চাইছে,বড়ো কঠিন আটকে রাখা তবু...
পিং...একটা ম্যাসেজ এল।
পাশের বাড়ির অপু পাঠিয়েছে-ছোট্ট অপু আজ
এত্তো বড়ো।বড় শহরে কোম্পানী বস।
তবু শ্রীজা ওই মা হারা ছেলের মামনি...ওর খেলা,
গল্প,অভিমান,মায়া সব তার মামনির কাছে।সে ভোলে না ।লিখেছে...মামনি তোমার বার্থ ডে তে পায়েস বানালাম,পুজো দিলাম মন্দিরে। তুমি সামনে নেই।।বড় মনে পড়ছে গো।যদি পারতাম তোমার কোলে মাথাটা রাখতে...।
শ্রীজা আর চোখের জল আটকাতে পারল না।
আকণ্ঠ কেঁদে উঠলো।দৌড়ে গেল বাথরুমে।
মুখ ধুয়ে ফেলল।এসব কান্নার বড় দাম।বড় যত্নে রাখতে হয়।দেখাতে হয় না।খেলো হয়ে যায়।
শ্রীজা একটা কচি কলাপাতা রঙের তাঁত পড়ল।একটু হালকা সাজ।বেড়িয়ে পড়ল।দিনটা আনন্দে কাটাবে সে।কিছু কারো জন্য আটকে থাকে না।।
আর আশ্চর্য আকাশটা ফেটে যেন সোনার আলো ঝড়ে পড়ছে।।যেন শ্রীজার মনের খুশির আলো।।
আকাশ যেন খবর পেয়ে গেছে শ্রীজার খুশির।।
আগরতলা,ভারত।