দীর্ঘ দুই বছরের অবরোধ শিথিল হওয়ার পর গাজা উপত্যকা ও মিসরের মধ্যবর্তী রাফাহ সীমান্ত পুনরায় পুরোপুরি খোলার আশায় দিন গুনছেন ফিলিস্তিনিরা। রোববার সীমিত পরিসরে পরীক্ষামূলকভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তপথ আংশিকভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত রাফাহ সীমান্তটি ২০২৪ সালের মে মাসে হামাসের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে এটি প্রায় পুরোপুরি বন্ধ ছিল। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থাগুলো সীমান্ত খুলে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়ে আসছিল।
ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’ জানিয়েছে, সোমবার প্রায় ১৫০ জন গাজাবাসী সীমান্ত পেরিয়ে মিসরে যাওয়ার অনুমতি পাবেন। তাদের মধ্যে অন্তত ৫০ জন গুরুতর অসুস্থ রোগী। একই দিনে প্রায় ৫০ জন মানুষের গাজায় প্রবেশের কথাও রয়েছে। সীমান্তটি প্রতিদিন প্রায় ছয় ঘণ্টা খোলা থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
রোববার তোলা এএফপি’র ছবিতে দেখা যায়, মিসর অংশে সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করছে অ্যাম্বুলেন্স। চিকিৎসার উদ্দেশ্যে যেসব রোগী সীমান্ত পার হওয়ার অনুমতি পাবেন, তাদের নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। হামাসের নিয়ন্ত্রণাধীন গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, প্রায় ২০০ রোগী এখনও সীমান্ত পার হওয়ার অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছেন।
মোহাম্মদ নাসির নামে এক ফিলিস্তিনি বলেন, “রাফাহ সীমান্ত আমাদের জীবনরেখা।” যুদ্ধের শুরুতে আহত হয়ে তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে। তিনি জানান, এমন একটি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন, যা গাজায় সম্ভব নয় এবং বিদেশে করাতে হবে।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও টানা দুই বছরের সংঘাতে গাজার মানবিক পরিস্থিতি এখনও ভয়াবহ। গত ১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি চললেও সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। শনিবার ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৩২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার সিভিল ডিফেন্স। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর দাবি, রাফাহ এলাকায় একটি সুড়ঙ্গ থেকে যোদ্ধারা বেরিয়ে আসার পর পাল্টা হামলা চালানো হয়।
এদিকে মিসরের ‘কায়রো নিউজ’ জানিয়েছে, মিসর অংশের রাফাহ সীমান্ত চব্বিশ ঘণ্টাই খোলা থাকবে এবং গাজা থেকে আসা রোগীদের চিকিৎসার জন্য মিসরের হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে মিসর ও জর্ডানের নেতারা গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক সরিয়ে দেওয়ার যেকোনো পরিকল্পনা পুনরায় প্রত্যাখ্যান করেছেন।
অন্যদিকে, রোববার ইসরাইল ঘোষণা দেয় গাজায় ‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস’ (এমএসএফ)-এর মানবিক কার্যক্রম বন্ধ করা হচ্ছে। সংস্থাটি তাদের ফিলিস্তিনি কর্মীদের তালিকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমএসএফ জানিয়েছে, তালিকা দিলে তাদের কর্মীরা গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
কী-ওয়ার্ডস:রাফাহ সীমান্ত,গাজা সংকট,ফিলিস্তিনি মানবিক পরিস্থিতি