জীবনের শেষবেলায় পৌঁছে গেছি,
অপেক্ষা করতে করতে আজ বড়ো ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।
চোখ দু'টোও আর খোঁজে না, হতাশা ছেড়েছে প্রাপ্তির আশা।
ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়াই লম্বা ব্যাগটা কাঁধে ঝুলিয়ে,
যে যা বলে বলুক -- বধির হয়ে গেছি শুনতে শুনতে।
কেউ যদি বলে -- শান্তি পায় পাক না
মনটা হালকা হোক ফুরফুরে বাতাসের মতো।
যাচ্ছি নদী পথে--- যাত্রাটা সব সময়ই পছন্দের,
লঞ্চ ঘাট থেকে ছাড়তে ছাড়তে রাত দশটা।
কেবিন ছেড়ে বাইরে ডেকে দাঁড়িয়ে আছি--
রাতের আঁধারও যে সৌন্দর্য আছে খোলা আকাশের
নিচে না দাঁড়ালে অজানায় থেকে যেত।
দুচোখ ভরে দেখছিলাম ঘুটঘুটে অন্ধকারে জীবনানন্দের রূপসীবাংলা।
দেবদারু,শিরিশের বন, জলের ছলাৎছলাৎ শব্দে
তন্ময় হয়ে শুনছিলাম ঘুঙুর পায়ে হাঁসের বিচরণ।
হঠাৎ বেজে উঠলো সাইরেন বিপদ সংকেত
এক নিমেষেই ঝড়ে দুলতে লাগলো লঞ্চ,
সমস্ত শক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করার চেষ্টা সারেং।
সবাই যে যার মতো প্রার্থনায় রত --
আমিও চোখ বন্ধ করে ইষ্টদেবতার নাম স্মরণ করছি।
কানে এলো কে যেন নাম ধরে ডেকে বলছে --- ভয় নেই আমি আছি,
চমকে ফিরে তাকালাম বুঝতে পারলাম না
মনে হলো খুব পরিচিত কণ্ঠস্বর।
নামটা শুনতেই অন্ধকারেও বোধকরি মুখটা লাল হয়ে উঠেছিল,
নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম --- তুমি !
এতদিন কোথায় ছিলে ?
একগাল হাসি ছড়িয়ে বলল ---
হারিয়েছিলে সুখের দিনে, আজ বিপদের রাতে ফিরে পেলে।
ধরে নাও গতির পরিবর্তন,
বাড়িয়ে দিল হাত শক্ত করে ধরে দাঁড়িয়ে রইলাম।