শুক্রবার, অক্টোবর ২, ২০২৬

মহাপ্রয়াণের এক বছর : কিংবদন্তী গীতিকবি গাজী মাজহারুল আনোয়ার

  • এ কে আজাদ
  • ২০২৩-০৯-০৪ ২৩:৫৩:১৯

গাজী মাজহারুল আনোয়ার। চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক, কাহিনী-চিত্রনাট্যকার, সংলাপ রচয়িতা, গীতিকার ও সুরকার। বাংলাদেশের সর্বাধিক গানের গীতিকার, সর্বাধিক জনপ্রিয় গানের গীতিকার, সর্বাধিক দেশাত্মবোধক গানের গীতিকার, সর্বাধিক চলচ্চিত্রের গানের গীতিকার তিনি। বাংলাদেশের সঙ্গীতে সর্বকালের সেরা গীতিকবি হিসেবে অবিহিত করা যায় তাঁকে। অসম্ভব মেধাবী এই মানুষটি ছিলেন স্বভাবকবি, খুবই কম সময়ের মধ্যে গান লিখার অসম্ভব ক্ষমতা ছিল তাঁর। বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও কিংবদন্তি গীতিকবি গাজী মাজহারুল আনোয়ার এর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি ২০২২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর, ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। প্রয়াত এই গুণি ব্যক্তিত্বের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি। তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। গাজী মাজহারুল আনোয়ার ১৯৪৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি, কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি থানার তালেশ্বর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মোজাম্মেল হোসেন, মাতার নাম খাদেজা বেগম। কুমিল্লা জেলা স্কুল থেকে এসএসসি ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। স্নাতক সম্পন্ন করেন 'তোলারাম কলেজ' (নারায়ণগঞ্জ) থেকে।

No description available.

১৯৬৪ সাল থেকে তৎকালীন রেডিও পাকিস্তান ঢাকা কেন্দ্রের জন্য গান লেখা শুরু করেন। এদেশে টেলিভিশনের জন্মলগ্ন থেকেই নিয়মিত গান ও নাটক রচনা করেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার। ১৯৬৭ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত, চলচ্চিত্রকার সুভাষ দত্ত পরিচালিত 'আয়না ও অবশিষ্ট' চলচ্চিত্রের জন্য তিনি প্রথম গান লেখেন। এরপরে তিনি বহু চলচ্চিত্রে গান লিখেছেন এবং একজন কিংবদন্তি গীতিকবি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। গাজী মাজহারুল আনোয়ার যেসব চলচ্চিত্রে গান লিখেছেন তারমধ্যে উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র- আবির্ভাব (১৯৬৮), নীল আকাশের নিচে (১৯৬৯), পীচ ঢালা পথ (১৯৭০), ক খ গ ঘ ঙ (১৯৭০), দীপ নেভে নাই (১৯৭০), দর্প চূর্ণ (১৯৭০), বিনিময় (১৯৭০), সাধারণ মেয়ে (১৯৭০), জয়বাংলা, স্বরলিপি (১৯৭১), অবুঝ মন (১৯৭২), ওরা ১১ জন, রংবাজ (১৯৭৩), বেঈমান (১৯৭৪), অনেক দিন আগে (১৯৭৪), চাষীর মেয়ে (১৯৭৫), উপহার(১৯৭৫), জয় পরাজয় (১৯৭৬), বন্দিনী (১৯৭৬), সূর্যগ্রহণ (১৯৭৬), দি রেইন (১৯৭৬), নয়নমণি (১৯৭৬), দস্যু বনহুর (১৯৭৬), গড়মিল(১৯৭৬), মণিহার (১৯৭৬), অনন্ত প্রেম (১৯৭৭), মতিমহল (১৯৭৭), গোলাপী এখন ট্রেনে (১৯৭৮), অশিক্ষিত (১৯৭৮), ডুমুরের ফুল (১৯৭৮), দি ফাদার (১৯৭৯), সূর্য সংগ্রাম (১৯৭৯), মহানগর (১৯৮১), অংশীদার, নান্টু ঘটক, লাল কাজল (১৯৮২), পুরস্কার (১৯৮৩), নতুন বউ (১৯৮৩) নাজমা (১৯৮৩), বানজারান, পেনশন (১৯৮৪), অভিযান (১৯৮৪), মা ও ছেলে (১৯৮৫), সারেন্ডার (১৯৮৭), রাজলক্ষী শ্রীকান্ত (১৯৮৭), যোগাযোগ (১৯৮৭), আগমন (১৯৮৭), রাঙা ভাবী (১৯৮৯), জীনের বাদশা (১৯৮৯), ছুটির ফাঁদে (১৯৯০), স্বাধীন(১৯৯০), অন্ধ বিশ্বাস (১৯৯২), ক্ষুধা, তুমি আমার (১৯৯৪), দেনমোহর (১৯৯৪), আশা ভালোবাসা (১৯৯৫), আঞ্জুমান (১৯৯৫), তপস্যা, বাবার আদেশ (১৯৯৫), স্বপ্নের পৃথিবী (১৯৯৬), অজান্তে (১৯৯৬), দুর্জয় (১৯৯৬), তোমার জন্য পাগল (১৯৯৭), কখনো মেঘ কখনো বৃষ্টি (২০০৩), মান্না ভাই (২০০৪), হৃদয়ের কথা (২০০৬), বিদ্রোহী পদ্মা (২০০৬), তুমি কত সুন্দর (২০০৮), এ চোখে শুধু তুমি (২০০৮), বধূবরণ (২০০৮), যদি বউ সাজগো (২০০৮), তুমি আমার স্বামী (২০০৯), হৃদয় ভাঙ্গা ঢেউ (২০১১), রাজা সূর্য খাঁ (২০১২), জজ ব্যরিস্টার পুলিশ কমিশনার (২০১৩), নিঃস্বার্থ ভালোবাসা (২০১৩), পুত্র এখন পয়সাওয়ালা (২০১৫), বিগ ব্রাদার (২০১৫), লালচর (২০১৫), মাটির পরী (২০১৬) ইত্যাদি।

No description available.

অসংখ্য জনপ্রিয় ও কালজয়ী গানের গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার। তিনি চলচ্চিত্র ছাড়াও লিখেছেন দেশাত্মবোধক ও আধুনিকসহ সবধরণের গান। তাঁর গানে উঠে এসেছে মুক্তিযুদ্ধ, দেশপ্রেম, প্রকৃতি, জীবনবোধ, প্রেম-বির, রাগ-অনুরাগ, কটাক্ষ, মানবতা, বিদ্রোহ, সামাজিক নাটকীয়তা'হসহ নানা অনুভূতির কথা। তাঁর লেখা জনপ্রিয় ও কালজয়ী গানের মধ্যে - নীল আকাশের নীচে আমি রাস্তা চলেছি একা...., আছেন আমার মোক্তার আছেন আমার ব্যারিস্টার...., ইশারায় শীষ দিয়ে....., তুমি হলে তুমি...., চোখের নজর এমনি কইরা..., যদি আমাকে দেখতে সাধ হয় বাংলার মুখ তুমি দেখে নিও..., চিঠি দিও প্রতিদিন চিঠি দিও..., একা একা কেন ভালো লাগে না..., পিচঢালা এ পথটারে ভালোবেসেছি...,আমি সাত সাগর পাড়ি দিয়ে যেন সৈকতে পরে আছি...,তোমারই পরশে জীবন আমার ওগো ধন্য হলো..., বিক্রমপুরে বাপের বাড়ি ছিল একদিন পদ্মার পাড়..., জয় বাংলা বাংলার জয়..., একতারা তুই দেশের কথা বল রে এবার বল...., একবার যেতে দে না আমার ছোট্ট সোনার গাঁয়....., গানের খাতায় স্বরলিপি লিখে কী হবে...., তুমি আরেকবার আসিয়া যাও মোরে কাঁন্দাইয়া..., আকাশের হাতে আছে একরাশ নীল...., নাচরে ওমন ধীতান ধীতান নাচ...., বিদেশ গিয়া বন্ধু তুমি আমায় ভুইলো না..., এক নদীরই উজান ভাটি আমরা দু'টি ধারা..., মাগো তোর চরণতলে বেহেশত আমার..., আমরা তো বানজারান দেখাবো নাচ গান..., তোমারই পরশে জীবন আমার ওগো ধন্য হলো...., আমিতো বন্ধু মাতাল নই...., গীতিময় এইদিন চিরদিন রবে কি...., বলে দাও মাটির পৃথিবী কোথা শান্তি আমার জীবনে...., লোকে বলে রাগ নাকি অনুরাগের আয়না..., সবাই বলে বয়স বাড়ে আমি বলি কমেরে..., কারো আপন হইতে পারলিনা অন্তর...., হয় যদি বদনাম হোক আরো আমিতো এখন আর নই কারো..., কাছে এসো যদি বলো তবে দূরে কেন থাকো..., তুমি সাত সাগরের ওপাড় হতে আমায় ডেকেছো...., সুরের ভুবনে আমি আজো পথচারি...., হেসে খেলে জীবনটা যদি চলে যায়...., সবাইতো ভালবাসা চায় কেউ পায় কেউবা হারায়..., এই পথে পথে আম একা চলি...., প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য।


এ জাতীয় আরো খবর