ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হস্তক্ষেপ, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে তুলে নেওয়া এবং রাশিয়া ও ভেনেজুয়েলার তেলবাহী ট্যাংকার জব্দকে কেন্দ্র করে যখন বৈশ্বিক উত্তেজনা চরমে, ঠিক তখনই দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন উপকূলে শুরু হয়েছে চীন, রাশিয়া ও ইরানের সপ্তাহব্যাপী যৌথ নৌ মহড়া। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) চীনের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই মহড়াকে ওয়াশিংটনের জন্য একটি বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
ব্রিকস জোটের কাঠামোর আওতায় আয়োজিত এ মহড়ার লক্ষ্য হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার সশস্ত্র বাহিনী সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার ও জলদস্যুবিরোধী কার্যক্রমের কথা বললেও বিশ্লেষকদের মতে, এটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর পররাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধে বেইজিং, মস্কো ও তেহরানের সমন্বিত শক্তি প্রদর্শন।
আটলান্টিক ও ভারত মহাসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত দক্ষিণ আফ্রিকার সাইমন্স টাউন নৌঘাঁটিতে ইতোমধ্যে তিন দেশের যুদ্ধজাহাজ অবস্থান নিয়েছে। এতে অংশ নিচ্ছে চীনের ১৬১ মিটার দীর্ঘ আধুনিক ডেস্ট্রয়ার ‘তাংশান’, রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজ ‘স্তোইকি’ ও একটি রসদ সরবরাহকারী ট্যাংকার। ২০২৪ সালে ব্রিকস জোটে যোগ দেওয়া ইরানও সক্রিয়ভাবে এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছে।
যদিও দক্ষিণ আফ্রিকা দীর্ঘদিন ধরেই নিজেকে জোটনিরপেক্ষ দেশ হিসেবে দাবি করে আসছে, তবে প্রধান নৌঘাঁটিতে রুশ ও ইরানি যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলে ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। এরই মধ্যে নির্বাহী আদেশে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ আফ্রিকাকে ‘অশুভ শক্তির সমর্থক’ আখ্যা দিয়ে দেশটিতে মার্কিন অর্থায়ন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং অতীতে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত রুশ জাহাজকে অস্ত্র খালাসের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগে দক্ষিণ আফ্রিকা এখন যুক্তরাষ্ট্রের কড়া নজরদারিতে রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে কেপটাউনের উপকূলে শুরু হওয়া যৌথ নৌ মহড়া শুধু সামরিক অনুশীলন নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক ও কৌশলগত বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
কীওয়ার্ডস:চীন রাশিয়া ইরান মহড়া,কেপটাউন নৌ মহড়া,ব্রিকস জোট,বৈশ্বিক উত্তেজনা
সূত্র: রয়টার্স