ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে আরও কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনী। শনিবার ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস স্পষ্ট করে জানায়, দেশের নিরাপত্তা তাদের কাছে ‘লাল রেখা’-এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। একই সঙ্গে সেনাবাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী জনসম্পত্তি রক্ষা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদ থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুত রাজনৈতিক রূপ নেওয়ায় তেহরান সরকার কঠোর অবস্থান জোরদার করেছে। এই প্রেক্ষাপটেই রেভল্যুশনারি গার্ডসের এমন সতর্কবার্তা এলো।
এদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উত্তাপ ছড়াচ্ছে পরিস্থিতি। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতাদের উদ্দেশে নতুন করে হুঁশিয়ারি দেন। এর পরদিন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘ইরানের সাহসী জনগণের’ পাশে রয়েছে-যা তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের টানাপোড়েন আরও বাড়িয়েছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, শনিবার রাতভর বিভিন্ন এলাকায় অস্থিরতা চলেছে। তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলের কারাজ শহরে একটি পৌর ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে, যার দায় সরকার ‘দাঙ্গাকারীদের’ ওপর চাপিয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে শিরাজ, কোম ও হামেদান শহরে বিক্ষোভে নিহত বলে দাবি করা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের জানাজার দৃশ্য প্রচার করা হয়।
গত দুই সপ্তাহে ইরানের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভ শুরুতে অর্থনৈতিক দাবিতে হলেও পরে তা সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশে পরিণত হয়েছে। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এই আন্দোলন উসকে দিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাত রয়েছে। অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে এখন পর্যন্ত কয়েক ডজন প্রতিবাদকারী নিহত হয়েছে।
কীওয়ার্ডস:ইরান বিক্ষোভ, রেভল্যুশনারি গার্ডস, তেহরান পরিস্থিতি, যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা