রবিবার, মে ৩১, ২০২৬

মাদুরো ‘অপহরণ’ ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদে তীব্র ঝড়,যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নজির সৃষ্টির অভিযোগ

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০১-০৬ ১২:০৪:৫১
ছবি: সংগৃহীত।

ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করার ঘটনায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশগুলোর অনেকেই এই অভিযান নিয়ে প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক আইনের জন্য বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত বলে আখ্যা দিয়েছেন।
ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে ১৫ সদস্যের জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ স্থানীয় সময় সোমবার (৫ জানুয়ারি) নিউইয়র্কে জরুরি বৈঠকে বসে। একই দিনে নিউইয়র্কের একটি আদালতে মাদুরো ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মার্কিন মামলার শুনানিও শুরু হয়।
জাতিসংঘে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল মনকাডা এই অভিযানে তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি কোনো আইনি ভিত্তিহীন অবৈধ সশস্ত্র হামলা। তার বক্তব্যের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে কিউবা, কলম্বিয়া, রাশিয়া ও চীন। কিউবার রাষ্ট্রদূত আর্নেস্টো সোবেরন গুজম্যান অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজের এখতিয়ারবহির্ভূত এলাকায় শক্তি প্রয়োগ করে আইন চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।
রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে এমন কোনো সর্বোচ্চ বিচারক ভাবতে পারে না, যে একতরফাভাবে অন্য রাষ্ট্র আক্রমণ, অপরাধ নির্ধারণ ও শাস্তি কার্যকর করবে। চীনও সার্বভৌমত্ব ও হস্তক্ষেপ না করার নীতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান জানায়।
জরুরি বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী মিত্র মেক্সিকো ও ডেনমার্কের অবস্থান বিশেষভাবে নজর কাড়ে। মেক্সিকোর রাষ্ট্রদূত হেক্টর ভাসকনসেলোস বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের উচিত দ্বিমুখী নীতি পরিহার করে জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী সার্বভৌম জনগণের অধিকার রক্ষা করা। ডেনমার্ক স্পষ্ট করে জানায়, কোনো দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বলপ্রয়োগের মাধ্যমে প্রভাবিত করা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি।
ফ্রান্সও এই অভিযানের সমালোচনা করে জানায়, মাদুরোকে আটক করার সামরিক পদক্ষেপ শান্তিপূর্ণ বিরোধ নিষ্পত্তির নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অন্যদিকে লাতভিয়া ও যুক্তরাজ্য ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ সংকট ও মাদুরোর শাসনামলের দমন-পীড়নের বিষয়টি তুলে ধরে ভিন্ন সুরে কথা বলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ অবশ্য অভিযানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে একে ‘আইন প্রয়োগকারী সূক্ষ্ম অভিযান’ বলে উল্লেখ করেন। হোয়াইট হাউসও ভেনেজুয়েলায় বিমান হামলা ও মাদুরোকে আটক করার ঘটনাকে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় বলে সমর্থন জানালেও মাদুরোর বিরুদ্ধে তোলা মাদক-সন্ত্রাসবাদের অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।
এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সার্বভৌমত্ব, শক্তি প্রয়োগ এবং আন্তর্জাতিক আইনের সীমা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তীব্র হয়েছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

কী-ওয়ার্ডস: ভেনেজুয়েলা সংকট, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, মাদুরো আটক


এ জাতীয় আরো খবর