রবিবার, মে ৩১, ২০২৬

মাদুরো আটক পরবর্তী ভেনেজুয়েলা: অন্তর্বর্তী নেতৃত্বকে তিন কড়া শর্তে চাপে যুক্তরাষ্ট্র

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০১-০৬ ১১:০৯:২৪
ফাইল ছবি

নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর ভেনেজুয়েলায় ক্ষমতার পালাবদলের মধ্যেই দেশটির নতুন অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের সামনে তিনটি কঠোর শর্ত তুলে ধরেছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব শর্ত মানা না হলে সামরিক চাপ আরও বাড়ানো হবে বলে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ আলোচনার সঙ্গে পরিচিত একাধিক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের কাছে ওয়াশিংটনের প্রধান তিনটি দাবি হলো— মাদক পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান, ইরান, কিউবা ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত অপারেটিভদের ভেনেজুয়েলা থেকে বহিষ্কার এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ দেশগুলোর কাছে তেল বিক্রি বন্ধ করা।
মার্কিন রাজনৈতিক সাময়িকী পলিটিকোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র প্রত্যাশা করছে রদ্রিগেজ একপর্যায়ে অবাধ নির্বাচন আয়োজন করবেন এবং পরে ক্ষমতা ছেড়ে দেবেন। তবে এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি ঠিক হয়নি। বরং মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, শিগগিরই নির্বাচন হচ্ছে না।
মাদুরোকে আটকের দুই দিন পরও ভেনেজুয়েলা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি কৌশল পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। হোয়াইট হাউস দাবি করছে, এটি কোনো সরকার উৎখাত বা যুদ্ধ অভিযান নয়; বরং একজন ‘মাদকসম্রাটের’ বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পদক্ষেপ। এই ব্যাখ্যার মাধ্যমেই সীমিত সামরিক কার্যক্রমকে বৈধতা দিচ্ছে প্রশাসন।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের আকস্মিক সিদ্ধান্ত ও লক্ষ্যভিত্তিক হামলার প্রবণতা ভেনেজুয়েলায় বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকটে থাকা প্রায় তিন কোটি মানুষের এই দেশে ভুল কৌশল সহিংসতা ও অস্থিরতা বাড়াতে পারে।
মার্কিন প্রশাসনের দৃষ্টিতে ডেলসি রদ্রিগেজই এখন পুরো কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু। মাদুরোর ঘনিষ্ঠ মিত্র ও সমাজতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসী হলেও, যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে— তিনি শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের শর্ত মেনেই এগোতে বাধ্য হবেন। নতুবা আরও বড় সামরিক অভিযানের আশঙ্কা রয়েছে বলে প্রকাশ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প।
রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলা আপাতত ‘ভদ্র আচরণ’ করছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের মতো শক্তিশালী বাহিনী থাকলে প্রয়োজনে দ্বিতীয় দফা হামলা চালানো হবে।
এদিকে শুরুতে মাদুরোকে আটকের ঘটনায় ক্ষোভ জানালেও, সাম্প্রতিক বক্তব্যে রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘সহযোগিতার এজেন্ডা’ নিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। এতে ওয়াশিংটনের চাপ যে কাজ করতে শুরু করেছে, তা স্পষ্ট বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
ভেনেজুয়েলায় ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপস্থিতি এবং মাদুরোর ঘনিষ্ঠদের ভূমিকা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই অস্থির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ পথচিত্র।

কী-ওয়ার্ডস: ভেনেজুয়েলা সংকট, ট্রাম্প হুঁশিয়ারি, ডেলসি রদ্রিগেজ


এ জাতীয় আরো খবর