কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে দুই সহকারী শিক্ষকের মারামারির ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্তৃপক্ষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হলে তদন্ত শেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের নির্দেশে মালাপাড়া ইউনিয়নের চান্দপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহমুদুল হাসান জুনায়েদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই বিদ্যালয়ের আরেক সহকারী শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দা হালিমা পারভীন জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ঘটনার সার্বিক তদন্ত করে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জানা গেছে, গত ৮ ডিসেম্বর দুপুরে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে দুই শিক্ষকের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ থেকে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতিতে রূপ নেয়। ঘটনার একটি প্রায় ৩৩ সেকেন্ডের ভিডিও পরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে একজন শিক্ষককে অন্যজনকে চেয়ারে ফেলে গলা চেপে ধরতে দেখা যায়। আতঙ্কিত কণ্ঠে একজন নারীকে পরিস্থিতি শান্ত করার আকুতি জানাতেও শোনা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মারামারির সময় উত্তেজিত হয়ে মাহমুদুল হাসান জুনায়েদ একটি ধারালো বঁটি হাতে নিয়ে সহকর্মীর দিকে এগিয়ে গেলে উপস্থিত সহকারী শিক্ষিকা ঝর্না আক্তার দ্রুত সেটি কেড়ে নেন। পরে অন্যান্য শিক্ষক ও স্থানীয়রা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও শিক্ষার মর্যাদা রক্ষায় ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনায় আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
কুমিল্লা শিক্ষক মারামারি,প্রাথমিক বিদ্যালয় শাস্তি,শিক্ষক বরখাস্ত