মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ১৬, ২০২৫

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়: দুই দশকের অপেক্ষার অবসান

  • স্পোর্টস ডেস্ক
  • ২০২৫-১১-১৯ ১০:২৮:২১
ছবি: সংগৃহীত।

এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দুই দশকেরও বেশি সময়ের অপেক্ষা ভেঙে ভারতকে হারাল বাংলাদেশ। জাতীয় স্টেডিয়ামে গ্যালারি ভরা দর্শকের সামনে লাল-সবুজের দল উপহার দিল শৃঙ্খলা, তীব্র লড়াই ও সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তের অসাধারণ সমন্বয়। শুরুতেই পাওয়া গোল ধরে রেখে বাংলাদেশ ম্যাচ শেষে জিতল ১-০ গোলে, শেষ হলো ২০০৩ সালের পর ভারতের বিপক্ষে জয় না পাওয়ার দীর্ঘ প্রতীক্ষা।
ম্যাচের ১১তম মিনিটেই আসে সেই স্বপ্নঘন মুহূর্ত। বাঁ দিক থেকে রাকিব হোসেনের দারুণ ক্রস চোখের সামনে পেয়েই ঠান্ডা মাথায় গোল করেন শেখ মোরছালিন। জাতীয় দলে এটি তার সপ্তম গোল, আর এই গোলই হয়ে ওঠে রাতের নির্ধারক বাজি।
প্রথমার্ধে ভারত বল দখলে এগিয়ে থাকলেও গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়। বিপরীতে বাংলাদেশের রক্ষণ ছিল দৃঢ় ও সংগঠিত। ৩৪ মিনিটে তপু বর্মণ ও ভারতের বিক্রমের সংঘর্ষে ম্যাচ কিছুটা উত্তপ্ত হলেও দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এই সময়ে বাংলাদেশের ত্রাতা হয়ে ওঠেন হামজা চৌধুরী, যিনি বিপজ্জনক এক ক্রস ক্লিয়ার করে দলকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করেন।
বিরতির আগে হামজার দূরপাল্লার শট অল্পের জন্য বাইরে গেলে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ হাতছাড়া হয়। তবু বাংলাদেশ নামলো আত্মবিশ্বাস নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ভারত আক্রমণাত্মক ফুটবলে ফিরে আসে। কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও সাদ উদ্দিন, তপু বর্মণ ও বদলি শাকিল আহাদের দৃঢ়তায় প্রতিটি আক্রমণেই দেয়াল হয়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। ৮৩ মিনিটে ভারতের ডিফেন্ডারের হাতে বল লাগলেও রেফারি পেনাল্টির দাবি ফিরিয়ে দেন। তবে সেই সিদ্ধান্তকে ঠাণ্ডা মাথায় মেনে নিয়ে বাংলাদেশ মনোযোগ ধরে রাখে রক্ষণে।
ম্যাচের শেষদিকে আক্রমণের চাপ সামলাতে কোচ নামান শাহরিয়ান ইমন ও তাজউদ্দিনকে। তাদের তৎপরতায় মাঝমাঠে ও রক্ষণে আসে বাড়তি স্থিরতা। যোগ করা সময়েও ভারতকে গোলের সুযোগ দেয়নি বাংলাদেশ।
শেষ বাঁশি বাজতেই জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হয় উল্লাস। ২২ বছরের অপেক্ষা ভেঙে বাংলাদেশ পেল ভারতের বিপক্ষে এক অনন্য জয়। মোরছালিন, হামজা-আর পুরো দলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় লাল-সবুজ আজ ইতিহাসের নতুন পাতায় লিখল বড় অর্জনের গল্প।

কীওয়ার্ডস: বাংলাদেশ জয়, ভারত পরাজয়, এশিয়ান কাপ বাছাই


এ জাতীয় আরো খবর