সোমবার, মে ২৫, ২০২৬

নিষেধাজ্ঞার চাপে দেউলিয়া ইরানের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংক আয়ান্দে,নিয়ন্ত্রণে নিল রাষ্ট্রীয় মেল্লি ব্যা

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৫-১০-২৬ ১০:০২:১৩
ছবি: সংগৃহীত।

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক সংকটের চাপে ইরানের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক আয়ান্দে ব্যাংক'কে দেউলিয়া ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। ব্যাংকটির সব সম্পদ ও দায়-দেনা রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মেল্লি ব্যাংক-এর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে বলে শনিবার সরকারি গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে।
২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত আয়ান্দে ব্যাংক ইরানজুড়ে ২৭০টি শাখা পরিচালনা করত, যার অর্ধেকের বেশি ছিল রাজধানী তেহরানে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অনাদায়ী ঋণ, প্রকল্পে অস্বচ্ছ বিনিয়োগ এবং আর্থিক দুর্বলতার কারণে প্রতিষ্ঠানটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে, ব্যাংকটির মোট লোকসান প্রায় ৫২০ কোটি ডলার, আর অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ ২৯০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।
শুক্রবার ব্যাংকটির সাবেক শাখাগুলোর বাইরে গ্রাহকদের লাইন ধরে অপেক্ষা করতে দেখা যায়, তাদের অনেকে সঞ্চয় ফেরত পাওয়ার আশায় ব্যাংকে উপস্থিত হয়েছিলেন। নিরাপত্তা বজায় রাখতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন ছিল বলে এএফপি জানিয়েছে।
ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, মেল্লি ব্যাংক আয়ান্দে ব্যাংকের সব সম্পদ ও দায়ভার গ্রহণ করেছে। মেল্লি ব্যাংকের পরিচালক আবুলফজল নাজারজাদে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, “গ্রাহকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। সব আমানত নিরাপদ রয়েছে, তারা চাইলে তাদের টাকা তুলতে পারবেন।”
ইরানের অর্থমন্ত্রী আলি মাদানিজাদেও একই আশ্বাস দিয়েছেন, তিনি বলেন, “এটি একটি পুনর্গঠনের অংশ, যাতে ব্যাংক খাতকে স্থিতিশীল করা যায়।”
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা হামিদরেজা ঘানিয়াবাদি জানিয়েছেন, ব্যাংকটির ৯০ শতাংশের বেশি ঋণ বরাদ্দ করা হয়েছিল আয়ান্দে ব্যাংকের নিজস্ব প্রকল্প ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে, যারা পরে ঋণ পরিশোধ করেননি।
উল্লেখ্য, আয়ান্দে ব্যাংক তেহরানের বিলাসবহুল ইরান মল শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণে প্রধান অর্থায়ন করেছিল-যেখানে রয়েছে সিনেমা হল, বরফের স্কেটিং রিংকসহ নানা বিনোদন সুবিধা।
তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, আয়ান্দের পাশাপাশি ইরানের আরও পাঁচটি ব্যাংক-সারমায়েহ, দেই, সেপাহ, ইরান জামিন ও মেলাল-আর্থিক সংকটে রয়েছে এবং পুনর্গঠনের পর্যায়ে আছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক জাতিসংঘের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের আক্রমণের পর ইরানের আর্থিক খাত নতুন করে চাপে পড়েছে। নিষেধাজ্ঞাগুলো ২০১৫ সালের পর প্রথমবারের মতো ‘স্ন্যাপব্যাক’ পদ্ধতিতে কার্যকর হয়, যা ব্যাংকিং লেনদেন ও বৈদেশিক বাণিজ্যকে প্রায় অচল করে দিয়েছে।
ইরানের অর্থনীতিবিদদের মতে, আয়ান্দে ব্যাংকের পতন দেশটির ব্যাংকিং খাতের ভঙ্গুর অবস্থা ও দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

কীওয়ার্ডস:
ইরান অর্থনীতি, আয়ান্দে ব্যাংক দেউলিয়া, মেল্লি ব্যাংক নিয়ন্ত্রণ


এ জাতীয় আরো খবর