দুর্গাপূজার ঠিক আগে প্রবল বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কলকাতা ও আশপাশের এলাকা। এক রাতের টানা বৃষ্টিতে প্রাণহানি হয়েছে অন্তত ১২ জনের। রয়টার্সের তথ্যমতে এই সংখ্যা ১২ হলেও এনডিটিভি বলছে নিহত ১০ জন। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের (আইএমডি) তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোর থেকে ২৪ ঘণ্টায় ২৫১.৬ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে—যা ১৯৮৮ সালের পর কলকাতায় সবচেয়ে ভারী বৃষ্টি। হঠাৎ বৃষ্টিতে শহরের প্রধান সড়কগুলো কোমরসমান পানিতে তলিয়ে যায়, যান চলাচল কার্যত থমকে দাঁড়ায়। বিদ্যুৎবিভ্রাট ও পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
প্রবল বর্ষণে দুর্গাপূজার প্রস্তুতিতেও বড় ধাক্কা লেগেছে। অনেক মণ্ডপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, দেব-দেবীর মাটির প্রতিমা ভেঙে পড়েছে। যাত্রীদের অনেককে হাঁটতে হয়েছে জলমগ্ন রাস্তায়, আবার কেউ কেউ ঘন্টার পর ঘন্টা যানবাহনে আটকে ছিলেন।
বৃষ্টির কারণে বিমান, রেল ও সড়ক যোগাযোগে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে। একাধিক ফ্লাইট ও ট্রেন বাতিল বা দেরিতে ছাড়তে হয়েছে। রাজ্য সরকার সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বুধবার ও বৃহস্পতিবার বন্ধ ঘোষণা করেছে।
আইএমডি জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী কয়েক দিন পূর্ব ভারতের আরও জেলায় বৃষ্টি হতে পারে। নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। তবে কর্মকর্তাদের আশা, বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে।
কীওয়ার্ডস:কলকাতা বন্যা,প্রবল বর্ষণ,দুর্গাপূজা প্রস্তুতি,বিদ্যুৎস্পৃষ্ট মৃত্যু