নেপালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা ঘিরে চলমান বিক্ষোভ নতুন মাত্রা পেয়েছে। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে অন্তত ১৯ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি দাবি করেছেন, আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল সহিংসতা ও নৈরাজ্য ছড়াচ্ছে।
টেলিভিশনে প্রচারিত ভাষণে অলি জানান, আন্দোলনের মূল দাবির সঙ্গে সরকার একমত হলেও একাধিক গোষ্ঠী ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালাচ্ছে। তার ভাষায়, “সরকার যদি দাবি মেনে নেয় তবে আন্দোলনের কারণ থাকে না। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সংগঠকরা বারবার কর্মসূচি শেষ করার ঘোষণা দিলেও সহিংসতা থামছে না।”
এদিকে, রোববার থেকে উত্তাল হয়ে ওঠা আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা কারফিউ ভেঙে রাজধানী কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ করছেন। প্রথমদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাপ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারই ছিল মূল দাবি। তবে এখন তা পূর্ণাঙ্গ সরকারবিরোধী আন্দোলনের রূপ নিয়েছে।
চাপের মুখে সোমবার মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক শেষে অলি ঘোষণা দেন, নিষিদ্ধ ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাপের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখক এরই মধ্যে পদত্যাগ করেছেন।
তবে সরকারের এই সিদ্ধান্ত আন্দোলন প্রশমিত করার পরিবর্তে আরও উস্কে দিতে পারে বলে শঙ্কা রয়েছে। কারণ রাজধানীর বাইরে অন্যান্য জেলাতেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।
অলি তার ভাষণে জোর দিয়ে বলেন, সরকার কখনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিরুদ্ধে নয়, বরং সেগুলো নেপালের আইন ও সার্বভৌমত্ব মেনে চলুক সেটাই প্রত্যাশা।
কীওয়ার্ডস: নেপাল বিক্ষোভ,কেপি শর্মা অলি,সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা,কাঠমান্ডু সংঘর্ষ,নেপাল রাজনীতি