ভারতের বিরুদ্ধে ভয়াবহ অভিযোগ তুলেছেন রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। তাদের দাবি, দিল্লি থেকে আটক করে নৌবাহিনীর জাহাজে তুলে সমুদ্রে ফেলে দিয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। এতে নিপীড়িত এই জনগোষ্ঠী আবারও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দাঁড়িয়েছে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম **বিবিসি** জানিয়েছে, দিল্লি থেকে আটক ৪০ জন রোহিঙ্গাকে বঙ্গোপসাগরের একটি দ্বীপে নেওয়ার পর নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজে তুলে আন্দামান সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। যদিও তাদের লাইফ জ্যাকেট দেওয়া হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন তারা। বর্তমানে মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধ কবলিত এলাকায় প্রতিরোধ গোষ্ঠী **বাহটু আর্মি**র আশ্রয়ে রয়েছেন।
রোহিঙ্গাদের অভিযোগ-আটক অবস্থায় হাত-পা বেঁধে রাখা, মারধর, ধর্মীয় বিদ্বেষপূর্ণ প্রশ্ন, এমনকি অবান্তর সন্ত্রাসবাদের অভিযোগও আনা হয় তাদের বিরুদ্ধে। শরণার্থীদের পরিবার বলছে, এভাবে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া মানবতার চরম লঙ্ঘন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষ প্রতিবেদক টমাস অ্যান্ড্রুজ জানিয়েছেন, এসব অভিযোগের পক্ষে তার হাতে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ রয়েছে। তিনি জেনেভায় ভারতের মিশন প্রধানকে এ সংক্রান্ত তথ্য জমা দিলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। জাতিসংঘ বলছে, রোহিঙ্গাদের এভাবে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া তাদের জীবনকে “চরম ঝুঁকিতে” ঠেলে দিয়েছে।
ভারতের সুপ্রিম কোর্টে এই ঘটনায় মামলা হয়েছে। তবে দেশটির বিচারপতি অভিযোগগুলোকে “অবাস্তব কল্পনা” বলে মন্তব্য করেছেন। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে শুনানি হবে।
ভারতে বর্তমানে আনুমানিক ৪০ হাজার রোহিঙ্গা থাকলেও সরকার তাদের শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না, বরং “অবৈধ অভিবাসী” হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই ঘটনায় রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
কীওয়ার্ডসঃভারত রোহিঙ্গা বিতাড়ন, নৌবাহিনীর জাহাজে রোহিঙ্গা,রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট,জাতিসংঘ ও ভারত রোহিঙ্গা,মিয়ানমার রোহিঙ্গা নিপীড়ন