বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘোষণা দিয়েছেন যে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
তিনি মালয়েশিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউকেএম) থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট গ্রহণকালে বলেন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং জনগণকে ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরিয়ে আনা তার সরকারের প্রধান অঙ্গীকার।
কুয়ালালামপুরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ইউনূস বলেন, গত বছর তরুণ প্রজন্ম সাহসের সঙ্গে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে প্রাণ দিয়েছে একটি উন্নত, বৈষম্যমুক্ত ভবিষ্যতের জন্য। তিনি জানান, জুলাই ও আগস্টের অভ্যুত্থান দেশের নতুন পরিচয় ও আশা তৈরি করেছে, এবং সরকার এখন শান্তি, স্থিতিশীলতা ও ন্যায়সঙ্গত শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার দিকে মনোযোগী।
অর্থনৈতিক সংস্কারের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ, এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি—এসবই একটি সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গঠনে সহায়ক হবে। তিনি তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, “তোমরা আগামী দিনের নির্মাতা; বড় স্বপ্ন দেখো, সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করো, এবং সবার উন্নয়নের জন্য অবদান রাখো।”
প্রফেসর ইউনূস বৈশ্বিক সম্পদ বৈষম্য মোকাবিলা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। নিজের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তিনি বলেন, ক্ষুদ্রঋণ ও সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন সম্ভব হয়েছে, কারণ দারিদ্র্যের মূল কারণ হলো সুযোগের অভাব।
বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের গভীরতার কথা উল্লেখ করে তিনি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান, বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, হালাল অর্থনীতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে। অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জাম্ব্রি আব্দুল কাদিরসহ ইউকেএম-এর উপাচার্য উপস্থিত ছিলেন।
কীওয়ার্ডস:
মুহাম্মদ ইউনূস, বাংলাদেশ নির্বাচন ২০২৬, মালয়েশিয়া ডক্টরেট, গণতন্ত্র, বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক