শনিবার, মে ২, ২০২৬

দু র্গা বে রা

  • সম্মানীয়া
  • ২০২৫-০৮-০৬ ০১:১৩:২৯

ততক্ষণে ট্রেন এসে গেছে তিন নম্বর প্লাটফর্মে।
সূর্যটা লাল থেকে এখন আগুন রঙা,
মানুষ ওকে আকর্ষণীয় ভাবে দেখছে,
আগে মিষ্টি করে হেসে সামনে দাঁড়ালেও মুখ ফিরিয়ে নিতো,
হাত পাতলে বলতো- যা ভাগ।
কেউবা সরে দাঁড়াতো নাক টিপে।
কেউ বলতো- উহু উহু, দূর থেকে, দূর থেকে,
আজ সেই মুখগুলোই বড্ডো নরম হয়ে তাকিয়ে আছে ওর দিকে, - একথা পাগলী বোঝে।
কেউ আবার দরদী কন্ঠে বলছে- অবস্থা দেখ.....

কেউ ভীড়ের মাঝে মুখ টিপে হেসে মৃদু ইশারায় তড়িঘড়ি আরেকজনকে বলল-- 
পাগলীটাও মা হয়েছে রে!

তিন নম্বর প্লাটফর্মের মনে পড়ে গেল প্রায় বছরখানেক আগের ঘটনা- 

সেদিন রাতে বৃষ্টি এলো ঝমঝমিয়ে
এমন হাঁটুজল জমলো! - বন্ধ হল ট্রেন।
আর বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্নতায় বন্ধ হল সবার গৃহের দ্বার,
সেদিন রাতে ঝিঁঝিঁ শোনালো ডাক আর তার মধ্যেই ভেসে এসেছিল 
গোঙানির শব্দ আর চাড্ডি কাঁচা খিস্তি, 
যা শুনে তিন নম্বর প্লাটফর্মের মনে হয়েছিল - 
চার নম্বর প্লাটফর্মে সেডের নীচে শুয়ে থাকা 
পাগলীটার সঙ্গে রয়েছে এক অবৈধ মা হওয়ানোর খেলোয়াড়। 
ভোরের আলো ফোটার আগে,
স্টেশনে মানুষ আসার আগে,
প্রথম ট্রেন ছাড়ার আগে,
অগোছালো পোশাকে পাগলী সেদিন জেনেছিল- তারও আছে কামুকের কাছে দাম। 

না। প্লাটফর্মের কোনো স্টল জানতে পারেনি, 
দুপাশের রেললাইন জানতে পারেনি, 
এমনকি দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনও পুরোটা জানতে পারেনি। 
জেনেছিলেন শুধু আপনি। হ‍্যাঁ হ‍্যাঁ শুধু আপনি। 
একমাত্র আপনিই জানেন সে রাতের ঘটনা। 

পাগলী রোজ আঙুল তুলে সভ‍্য সমাজকে ডেকে ডেকে দেখায় -- 
মা হওয়ানোর খেলোয়াড়কে।
কিন্তু,- 'বিকৃতমস্তিষ্ক' শব্দটা আপনাকে রক্ষা করে। 
আপনি ছাড় পেয়ে যান।
আপনি আজও পাগলীকে দেখে হাসেন।

ওর শরীর যতই নোংরা হোক, পোশাক যতই মলিন হোক,
আজও 'এই পাগলী' - বলে হাসতে হাসতে ওর শরীরের প্রতি আপনার লোভ হয়।
সুযোগ পেলে আপনি আবারও ওকে ছাড়বেন না একথা মনে মনে বলেন। 
ইচ্ছে হলেই ওর শরীর পাওয়া আপনার কাছে খুব একটা কঠিন ব‍্যাপার নয়, 
একথাও আপনি শাসান পাগলীকে চোখে চোখ রেখে।

আসল কথাটা হল- আপনি খড়ের নির্মাণকে ঈশ্বরী মানতে পারেন, 
প্রতিমা মানতে পারেন। কিন্তু রক্ত মাংসের নির্মাণকে 'সম্মাননীয়া' মানতে পারেন না।
সে জন্য মান এবং হুঁশ সমেত একটি মানুষ লাগে।


এ জাতীয় আরো খবর