নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধনের শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ৬৫টি রাজনৈতিক দল প্রথম ধাপ থেকেই বাতিল হয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ ৮০টি দল প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিয়েছে।
রোববার (৩ আগস্ট) বিকেল ৫টায় ১৫ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর এই তথ্য নিশ্চিত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
ইসির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিবন্ধনপ্রত্যাশী ১৪৫টি দলের মধ্যে কেউই প্রথমে শতভাগ তথ্য পূরণ করতে পারেনি। তাই কমিশন সব দলকে ১৫ দিন সময় দিয়ে ঘাটতি পূরণের সুযোগ দিয়েছিল। সেই সময় শেষ হলেও ৬৫টি দল কোনো নথি জমা দিতে পারেনি। আইন অনুযায়ী, এসব দলের আবেদন বাতিল করা হবে।
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “আইন অনুযায়ী ১৫ দিনের বেশি সময় দেওয়ার বিধান নেই। তাই যারা নথি জমা দেয়নি, তাদের আবেদন কমিশন বাতিল করবে।”
আইন অনুযায়ী, নিবন্ধন পেতে হলে দলগুলোকে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়। যেমন:
একটি কেন্দ্রীয় কমিটি, অন্তত এক-তৃতীয়াংশ জেলায় কমিটি ও ১০০টি উপজেলা কমিটি থাকতে হবে।
প্রতিটি কমিটিতে ২০০ ভোটারের সমর্থনের প্রমাণ থাকতে হবে।
পূর্বে সংসদ সদস্য থাকা বা আগের নির্বাচনে অন্তত পাঁচ শতাংশ ভোট পাওয়া দল নিবন্ধনের জন্য যোগ্য বিবেচিত হয়।
ইসির প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে দলগুলোকে সরেজমিন তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হয়। এরপর আপত্তি থাকলে শুনানি হয়, আর আপত্তি না থাকলে নিবন্ধন সনদ দেওয়া হয়।
বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত দলের সংখ্যা ৫১। ২০০৮ সালে চালু হওয়া নিবন্ধন প্রথায় এ পর্যন্ত ৫৫টি দল নিবন্ধন পেলেও শর্ত প্রতিপালনে ব্যর্থতা ও আদালতের রায়ের কারণে পাঁচটি দলের নিবন্ধন বাতিল করা হয়। এর মধ্যে সম্প্রতি আদালতের নির্দেশে জামায়াতে ইসলামী ও জাগপা নিবন্ধন ফিরে পেলেও ইসি শুধুমাত্র জামায়াতের নিবন্ধন ফিরিয়েছে।
ইসির সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার ৬৫টি দল নিবন্ধন প্রক্রিয়া থেকে ছিটকে গেল, আর বাকি ৮০টি দলের নথিপত্র পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কীওয়ার্ডস: রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাংলাদেশ, ইসি দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া, জাতীয় নাগরিক পার্টি নিবন্ধন, ৬৫ দলের নিবন্ধন বাতিল, নির্বাচন কমিশন আপডেট ২০২৫