বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক হার কমিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পূর্বে ৩৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হলেও তা ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। শুক্রবার (১ আগস্ট) হোয়াইট হাউসের এক ঘোষণায় এ তথ্য জানানো হয়।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম বড় রপ্তানি বাজার, যেখানে বছরে প্রায় ৮৪০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়, যার মধ্যে তৈরি পোশাকের অংশ সবচেয়ে বেশি।
শুল্ক হ্রাসের এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর আগে শুল্ক বৃদ্ধি বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল।
যুক্তরাষ্ট্র শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশের জন্য নতুন শুল্ক তালিকা প্রকাশ করেছে। দেশভেদে শুল্ক হার ১০ থেকে ৪১ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভারত: ২৫%
পাকিস্তান: ১৯%
মিয়ানমার: ৪০%
শ্রীলঙ্কা: ২০%
ভিয়েতনাম: ২০%
সুইজারল্যান্ড: ৩৯%
সিরিয়া: ৪১%
যুক্তরাজ্য: ১০%
ব্রাজিল: ১০%
দক্ষিণ আফ্রিকা: ৩০%
জাপান: ১৫%
মালয়েশিয়া: ১৯%
ইন্দোনেশিয়া: ১৯%
ফিলিপাইন: ১৯%
তাইওয়ান: ২০%
এছাড়া আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, বসনিয়া, লিবিয়া, সার্বিয়া, তিউনিসিয়া, তুরস্কসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশের ওপর ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শুল্ক হ্রাসের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশের চলমান বাণিজ্যিক আলোচনা এবং বোয়িং উড়োজাহাজ ক্রয়সহ সাম্প্রতিক ব্যবসায়িক পদক্ষেপের প্রভাব থাকতে পারে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনে একাধিক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যা শুল্ক হার কমানোর সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও জোরদার করতে বাংলাদেশ কাজ চালিয়ে যাবে।
কীওয়ার্ডস: যুক্তরাষ্ট্রে শুল্ক হার, বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি, তৈরি পোশাক খাত, ডোনাল্ড ট্রাম্প বাণিজ্যনীতি, মার্কিন-বাংলাদেশ বাণিজ্য