কি আছে তোমার মধ্যে?
শুধু একপলক দেখলে,
চোখ বুঝে থাকতে পারি অনন্তকাল।
ইচ্ছে করে গান্ধারীর মতো বেঁধে নিই দৃষ্টি,
বন্দী থাক প্রাণ ভোমরা সে আলোয়।
যদি খুলে ফেলি ! এক মুহুর্তের জন্যও
তোমার না দেখে থাকতে পারবোনা,
তাই তো এ বাঁধন!
বলোতো! কি আছে তোমার মধ্যে?
সারাক্ষণ কেনো থাকি, ইচ্ছে বন্দীত্বের দাসত্ব হয়ে
জানতে চেয়েছিলে না!
হ্যা, থাকি তোমাকে হারাবার ভয়ে।
তুমিহীনা যদি অন্য চোখে চোখ পড়ে যায়
সেটা ভেবে।
তাইতো স্বেচ্ছায় এই নির্বাসন।
বসে থাকি অন্ধকার মনোভূমে হুতুম পেঁচার মতো,
দরজা জানালার কপাট বন্ধ করে।
তাই আমি অথর্ব।
তোমার কন্ঠস্বর ছাড়া আমার যে আর,
কারও কথা ভালো লাগেনা!
তাই আমি চুপ করে বসে থাকি একা
বোবা গোঙ্গা হয়ে।
ওরা বলে আমি অহংকারী,
অথচ ওরা জানেনা
আমি একটি কন্ঠস্বরকে ধরে রাখার জন্য
সব সুর -তাল -লয় কেটে দিয়েছি।
তাই আমি বোবা।
তোমার মুখের আদল ভুলে যাওয়ার ভয়ে
আমি কারও পানে চাইতে পারিনা,
তাই দৃষ্টি নামিয়ে রাখি
অবনত মস্তকে পাতালপূরে।
ওরা বলে আমি উদ্ধৃত, আমি দৃষ্টিহীন!
তাই সরাসরি চাইতে পারিনা
সত্য আলোকে।
অথচ ওরা জানেনা, তোমার চোখে
চোখ রেখেছি যেদিন, সেদিন হতে অন্ধ।
তাই আমি কানা।
আচ্ছা! তুমি কি মেনে নিবে?
এই অথর্ব -বোবা- কানা- খোড়া -
ট্রেকারকে কাঁধে তুলে নিতে ?
তুমি কি পারবে এই নির্বোধ একরোখা
বোকাসোকা মানুষ টাকে
শক্ত করে বুকে জাপটে ধরে রাখতে ?
তুমি কি আদৌও কস্মিনকালেও অনুভব করো,
আমি তোমার কে !!