রবিবার, মে ৩১, ২০২৬

মোদি-স্টারমার বৈঠকে ঐতিহাসিক ‘ইন্ডিয়া-ইউকে’ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি: বাড়বে ৩৪ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • ২০২৫-০৭-২৬ ০০:৪৪:৫৭
ছবি সংগৃহিত

তিন বছর ধরে চলা আলোচনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ভারত ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে স্বাক্ষরিত হলো বহুল প্রত্যাশিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (Free Trade Agreement - FTA)। শুক্রবার (২৫ জুলাই) লন্ডনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যমন্ত্রী জোনাথন রেনল্ডস ঐতিহাসিক এই চুক্তিতে সই করেন।
চুক্তিটি কার্যকর হলে দুই দেশের মধ্যে বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এটি শুধু অর্থনৈতিক সম্পর্কই নয়, বরং কৌশলগত সহযোগিতাও আরও গভীর করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
FTA অনুযায়ী, ভারতীয় রফতানিকারকদের জন্য যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রবেশ আরও সহজ হবে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, আর্থিক সেবা, স্থাপত্য, প্রকৌশল, ব্যবস্থাপনা পরামর্শ, ও পেশাদার পরিষেবা খাতে ভারতীয় কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণ বাড়বে।
চুক্তির আওতায় যুক্তরাজ্যে ভারতীয় পেশাজীবী ও গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত যোগ্যতা ও সনদ বিনিময়ের একটি কাঠামো তৈরির ঘোষণা এসেছে, যা ভারতীয় পেশাজীবীদের ব্রিটিশ চাকরি বাজারে সহজ প্রবেশ নিশ্চিত করবে।
চুক্তির তাৎপর্য তুলে ধরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, “এটি যুক্তরাজ্যের জন্য একটি বিশাল বিজয়। ভারত যেমন আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, তেমনি এই চুক্তি আমাদের দেশের হাজার হাজার মানুষের জন্য নতুন চাকরি ও ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি করবে।”
তিনি আরও বলেন, “এটি আমাদের ‘প্ল্যান ফর চেঞ্জ’-এর অংশ। আমরা বৈশ্বিক নেতৃত্ব পুনরুদ্ধার এবং টেকসই অর্থনীতি গঠনের লক্ষ্যে এগোচ্ছি-এই চুক্তি তারই একটি বড় ধাপ।”
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই চুক্তিকে ভারতের জন্য এক “ঐতিহাসিক বিজয়” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। মোদি বলেন, “যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক শুধুই বাণিজ্যিক নয়, এটি ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের প্রতিফলন। এই চুক্তি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং ভারতীয় স্টার্টআপদের আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রবেশের দ্বার খুলে দেবে।”
ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেন, “FTA অনুযায়ী ভারতের পণ্য রফতানিতে শুল্ক সুবিধা পাবে এবং ভারতীয় আইটি ও পরিষেবা খাত উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হবে।”
চুক্তির অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ২৬টি ব্রিটিশ কোম্পানি ভারতে নতুন বিনিয়োগ পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছে। এতে তৈরি হবে উচ্চমানের প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প, স্টার্টআপ হাব এবং কর্মসংস্থান। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যে ভারতীয় বিনিয়োগও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, “এটি এককভাবে ভারত–যুক্তরাজ্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়। দুই দেশের কৌশলগত ভারসাম্য, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং রফতানি নির্ভর শিল্পের বিকাশে এই চুক্তি দীর্ঘমেয়াদে বড় ভূমিকা রাখবে।”
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের প্রভাব, ইউরোপের বাণিজ্যিক নীতি এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে ভারত ও যুক্তরাজ্যের এই FTA দুই দেশের ভূ-কৌশলগত অবস্থানকে শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে এটি ব্রেক্সিট-পরবর্তী যুক্তরাজ্যের জন্য একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পুনর্বাসনের বড় সাফল্য।
ভারত-যুক্তরাজ্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি শুধু দুই দেশের মধ্যে পণ্য ও সেবা বিনিময়ের দ্বার উন্মুক্ত করছে না, বরং দুই প্রজন্মের মধ্যে সেতুবন্ধনের ভূমিকা পালন করছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতির টানাপড়েনে এই চুক্তি বিশ্বকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে-বাণিজ্যিক সম্পর্ক এখন শুধু অর্থনীতির বিষয় নয়, বরং কৌশলগত অগ্রগতির একটি মূল চালিকাশক্তি।

কী ওয়ার্ডসঃভারতযুক্তরাজ্যচুক্তি, IndiaUKFTA, মুক্তবাণিজ্যচুক্তি, ModiStarmerDeal, IndoUKTrade2025

 
 
 
 

 


এ জাতীয় আরো খবর