রবিবার, মে ৩১, ২০২৬

বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে মেজরসহ দুই সেনা নিহত,তিন সন্ত্রাসী নিহত

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৫-০৭-২৫ ১৪:১৮:০৮
ছবি সংগৃহিত

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের মাস্তুং জেলায় সন্ত্রাসী দমনে চালানো অভিযানে দেশটির সেনাবাহিনীর এক মেজরসহ দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছে অন্তত তিনজন সশস্ত্র সন্ত্রাসী।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবর জিও নিউজ ও ডন অনলাইনের।
আইএসপিআর জানিয়েছে, সন্ত্রাসীদের একটি সশস্ত্র গ্রুপ মাস্তুং জেলার একটি পার্বত্য এলাকায় অবস্থান করছে-এমন গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পর সেনাবাহিনী বুধবার গভীর রাতে অভিযান শুরু করে।
অভিযান চলাকালে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালায়। উভয়পক্ষের মধ্যে তীব্র গুলিবিনিময় হয়, যাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মেজর জিয়াদ সেলিম আওয়াল (৩১) এবং সিপাহী নাজাম হুসেইন (২২) শহীদ হন।
আইএসপিআর-এর ভাষায়, “অভিযানে সাহসিকতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছেন মেজর জিয়াদ। তিনি তার বাহিনীকে সামনে থেকে পরিচালনা করছিলেন। সন্ত্রাসীদের ‘নরকে’ পাঠিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তার আত্মত্যাগ দেশের জন্য গৌরবের।”
অভিযানে নিহত তিন সন্ত্রাসীর পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর দাবি, এই সন্ত্রাসীরা বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সদস্য এবং ‘বিদেশি মদদপুষ্ট’, বিশেষত ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র-এর ইন্ধনে সক্রিয় ছিল।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, “ওই এলাকায় এখনো কোনো সন্ত্রাসী গা ঢাকা দিয়ে থাকলে, তাদের নির্মূল করতে চিরুনি অভিযান চলছে। দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
আইএসপিআর আরও জানায়, “সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে পাকিস্তান সেনাবাহিনী আপসহীন। ভারতীয় মদদপুষ্ট চক্রদের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে। আমাদের সাহসী যোদ্ধাদের আত্মত্যাগ আমাদের জাতীয় সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে।”
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে পাকিস্তানের বেলুচিস্তান, খাইবার পাখতুনখাওয়া এবং করাচিতে সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যা বেড়েছে। এসব হামলার অন্যতম লক্ষ্য হয়ে উঠেছে সেনাবাহিনী, রেঞ্জার্স ও পুলিশ সদস্যরা।
বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক উত্তেজনা, সীমান্ত অস্থিতিশীলতা ও ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপোড়েন এসব হামলার পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে। সাম্প্রতিক সময়ে বেলুচিস্তানে চীনা প্রকল্প ও অর্থনৈতিক করিডোর (CPEC)-এ হামলার ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

মাস্তুংয়ের এই অভিযানে পাকিস্তানি বাহিনীর দুই সদস্যের মৃত্যু দেশটিতে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আরও বৃহত্তর ও কাঠোর অভিযান চালানোর ঘোষণা এসেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করতে পারে।


এ জাতীয় আরো খবর