দুই দিনব্যাপী এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে। আয়োজক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ইতোমধ্যেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে, এবং আশার কথা-সভায় এসিসির সব সদস্য দেশই অংশ নিচ্ছে।
প্রথম দিকে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের সরাসরি অংশগ্রহণ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও, শেষ পর্যন্ত সব দেশই এজিএমে যোগ দিচ্ছে। বিসিবির পক্ষে আয়োজক প্রধান ও এসিসির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম বুলবুল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গতকাল বুধবার রাতে অনুষ্ঠিত এসিসির প্রাক-বৈঠক নৈশভোজ অনুষ্ঠান শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "গত দুই দিন ধরে আমরা অনেক পরিকল্পনা করেছি। আমাদের লক্ষ্য ছিল সবাইকে এক টেবিলে আনা। যদি কোনো ভুল বোঝাবুঝি থেকেও থাকে, আমরা সেটা দূর করতে পেরেছি। ক্রিকেটের স্বার্থেই সবাইকে রাজি করানো গেছে।"
আমিনুল ইসলাম জানান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ আগে থেকেই ঢাকায় উপস্থিত। আফগানিস্তান প্রতিনিধি দল বুধবার রাতে এসে পৌঁছায়। অন্যদিকে ভারত ও শ্রীলঙ্কা সরাসরি সভায় অংশ নিতে না পারলেও ভার্চুয়ালি যোগ দেবে।
এসিসির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, পূর্ণ সদস্য তিন দেশ-ভারত, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান—সহ বাকি দেশগুলো সভায় সরাসরি বা ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগদান নিশ্চিত করেছে।
বিসিবি বারবার উল্লেখ করে এসেছে যে, তারা কেবল এসিসির সভার স্বাগতিক হিসেবে লজিস্টিক সহায়তা দিচ্ছে। তবে পূর্ণ সদস্য দেশগুলোকে সভায় সম্পৃক্ত করতে বাংলাদেশ যে কূটনৈতিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, সেটিও ইঙ্গিতপূর্ণভাবে তুলে ধরেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
তিনি বলেন, “আমি এখানে বিস্তারিত বলব না। তবে বাংলাদেশের একজন প্রতিনিধি হিসেবে আমি গর্ব অনুভব করি। আমরা আমাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছি।”
আজ ও আগামীকাল (২৪–২৫ জুলাই) অনুষ্ঠিতব্য এই সভায় এশিয়ার ক্রিকেট উন্নয়ন, আসন্ন টুর্নামেন্টগুলোর সময়সূচি, আয়োজক নির্বাচন, আর্থিক ও কৌশলগত পরিকল্পনা এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির নানা দিক নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের এসিসি সভা শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং উপমহাদেশীয় ক্রিকেট রাজনীতির জটিলতা ও মেরুকরণের মধ্যে বাংলাদেশ এক শান্ত ও সমন্বয়ক ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পেরেছে, যা বিসিবির জন্য কৌশলগত সাফল্য হিসেবেই বিবেচিত হবে।