চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা ও শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলনের মধ্যে দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ফের উদ্যোগ নিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (২৩ জুলাই) বিকেল সাড়ে তিনটায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় তিনি ১৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন।
বৈঠকে অংশ নিয়েছেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সৈয়দ হাসিবউদ্দিন হোসেন, গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি, এবি পার্টির মজিবুর রহমান মঞ্জু, নাগরিক ঐক্যের শহীদুল্লাহ কায়সার, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নূর, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, খেলাফত মজলিসের ড. আহমদ আবদুল কাদের, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, জেএসডি-র তানিয়া রব, ১২ দলীয় জোটের শাহাদাত হোসেন সেলিম, বাসদের বজলুর রশীদ ফিরোজ, সিপিবির রুহিন হোসেন প্রিন্স এবং গণফোরামের ডা. মিজানুর রহমান।
এর আগে মঙ্গলবার (২২ জুলাই) বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ড. ইউনূস। ঐ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতা।
সংলাপ যখন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবনে চলছে, রাজপথ তখন উত্তাল শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে। সোমবার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৩১ জন নিহত এবং ১৬৫ জন আহত হওয়ার পর থেকেই উত্তাল হয়ে ওঠে শিক্ষাঙ্গন। মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় নামে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
মাইলস্টোন ক্যাম্পাস ঘিরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায় যখন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার এবং প্রেস সচিব শফিকুল আলম প্রায় ৯ ঘণ্টা ধরে সেখানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
অন্যদিকে সচিবালয়ের সামনেও বিক্ষোভ করে এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা। তারা সচিবালয়ের ফটক ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। পুলিশের লাঠিচার্জে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। গুলিস্তান ও সচিবালয় এলাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে, যেখানে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে অনেক সাধারণ মানুষকেও যুক্ত হতে দেখা যায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিকে জনগণ দ্রুত রাজনৈতিক সমাধান চায়, অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সরকারের জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী না থাকলেও প্রধান উপদেষ্টা দেশের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থেকে পরিস্থিতি মোকাবেলার চেষ্টা করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন নিয়েই মূল আলোচনা চলছে। তবে শিক্ষাক্ষেত্রে চলমান সংকটকে ঘিরেও উপদেষ্টাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
কী-ওয়ার্ডস:ডইউনূসআলোচনা,রাজনৈতিকসংলাপ২০২৫,শিক্ষার্থীবিক্ষোভ,মাইলস্টোনবিমানদুর্ঘটনা,রাজনৈতিকসমাধান