বিমান দুর্ঘটনা, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ও দেশের সামগ্রিক অস্থির পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে মঙ্গলবার (২২ জুলাই) রাতে একটি জরুরি বৈঠকে বসেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও চারটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা। বৈঠকটি রাত ৯টায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’-তে শুরু হয়।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এই উচ্চপর্যায়ের সংলাপে উপস্থিত ছিলেন-
বিএনপি: মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি: নায়েবে আমির আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি): আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ: প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন ও যুগ্ম-মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে আলোচ্য বিষয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে-
উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুলে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনা
সেই দুর্ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্বেগ এবং করণীয়
গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’-এর ভবিষ্যৎ কার্যপরিকল্পনা
এছাড়াও রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা প্রশমনে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সে বিষয়ে ঐক্যমতের চেষ্টা চলছে বলেও জানা গেছে।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে দুর্ঘটনার স্থান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের ঘেরাওয়ের মুখে পড়েন শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার, আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব। প্রায় ৯ ঘণ্টা শিক্ষার্থীদের দ্বারা অবরুদ্ধ থাকার পর পুলিশ তাদের নিরাপদে ক্যাম্পাস থেকে বের করে নিয়ে আসে।
উল্লেখ্য, সোমবার দুপুরে মাইলস্টোন স্কুলের প্রাথমিক শাখায় বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বহু শিক্ষার্থী হতাহত হন। সেদিনের পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছে শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের অব্যবস্থাপনা, অপ্রতুল জরুরি সেবা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তার অভাবই এই ভয়াবহ পরিণতির জন্য দায়ী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রধান উপদেষ্টার এই বৈঠক শুধু একটি ‘দুর্ঘটনা’ নিয়ে নয়, বরং এর প্রেক্ষিতে সৃষ্ট জাতীয় ক্ষোভ, সামাজিক উদ্বেগ এবং রাজনৈতিক উত্তাপ মোকাবেলায় একটি সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ হতে পারে।
এ বৈঠকের মধ্য দিয়ে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রাজনৈতিক সংলাপের দ্বার উন্মুক্ত হতে পারে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কিওয়ার্ডস: জাতীয়সংলাপ,মুহাম্মদইউনূসবৈঠক,বিএনপিজামায়াতসংলাপ