নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ও বর্তমান রাষ্ট্রনায়ক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘জাতীয় সংস্কারক’ ঘোষণার বিষয়টি কেন বিবেচনায় নেওয়া হবে না-তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। সোমবার (১৪ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
‘ড. ইউনূসকে জাতীয় সংস্কারক ঘোষণা’, ‘২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের প্রকৃত তালিকা প্রকাশ’ এবং ‘তাদের জাতীয় শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি’-এই তিনটি দাবিতে রিট করেছিলেন সাংবাদিক ইমদাদুল হক (হোয়াইট ম্যান)। তিনি ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একজন সদস্য।
রিটের প্রাথমিক শুনানিতে আদালত সংশ্লিষ্ট দফতরসমূহকে চার সপ্তাহের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলেছে। রুলে জনপ্রশাসন, মন্ত্রিপরিষদ, প্রতিরক্ষা, আইন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিবদের বিবাদী করা হয়েছে।
রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। তিনি বলেন, “২০২৪ সালের রাজনৈতিক সংকট কাটিয়ে সংস্কারমুখী প্রশাসন গঠন করেন ড. ইউনূস। বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন খাতে সংস্কার কমিশন গঠন করে সাহসী পদক্ষেপ নেন তিনি। জাতীয় স্বার্থে তার এই সংস্কার প্রক্রিয়াকে সম্মান জানিয়ে তাকে ‘জাতীয় সংস্কারক’ ঘোষণা করা উচিত।”
তিনি আরও দাবি করেন, “বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি মাত্র দল ছাড়া দেশের বাকি অংশ ড. ইউনূসের সংস্কারনীতিকে সমর্থন দিচ্ছে। অতএব, এটা সময়োপযোগী দাবি যে, তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় স্বীকৃতি দেওয়া হোক।”
রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইকরামুল কবির। আদালত তাদের কাছে রাষ্ট্রের মতামত জানতে চেয়েছে।
আদালতের এই রুলের ভিত্তিতে সরকারকে এখন বিষয়টি নিয়ে বিবেচনায় নিতে হবে। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সচিবদের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। এরপর আদালত রুলের চূড়ান্ত শুনানিতে সিদ্ধান্ত দেবে, আদৌ ড. ইউনূসকে জাতীয় সংস্কারক ঘোষণা করা হবে কিনা।
কিওয়ার্ডস: ড. ইউনূস জাতীয় সংস্কারক, হাইকোর্ট রুল ড. ইউনূস, ২০২৪ অভ্যুত্থান শহীদ, সংস্কার সরকার বাংলাদেশ, ইউনূস প্রশাসন রায়, ইউনূস হাইকোর্ট আপডেট, জাতীয় সংস্কার কমিশন