বুধবার, ফেব্রুয়ারী ১১, ২০২৬

পা র মি তা চ্যা টা র্জি

  • ভ্যালেন্টাইন্স ডে
  • ২০২৫-০৭-১২ ০১:০০:২১

আজ সুচরিতা খুব তাড়াতাড়ি স্কুল থেকে ফিরছে, আজ সৌরভ খুব গম্ভীর হয়ে অফিসে বেরিয়ে গেল শুধু মেয়ে মিঙ্কির গাল টিপে আদর করে বলে গেল হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন্স ডে মাম্মা। সুচরিতাকেও বলতে এসেছিল কিন্তু সুচরিতা তখন শ্বশুর মশাইয়ের জলখাবার দিতে ব্যাস্ত উনি আবার সময়ের এদিক ওদিক হলে ভিষণ রেগে গিয়ে না খেয়ে উঠে চলে যান। সৌরভের প্রিয় জলখাবার কড়াইশুঁটির কচুরি আর ছোলার ডাল বানাতে গিয়ে দেরি হয়ে গেছে। মেয়ে স্কুলে যাবে তাকে তৈরি করে পাঠান দুপুরের রান্না শ্বশুর আর মেয়ে স্কুল থেকে এসে খাবে তার ব্যবস্থা করা সৌরভের লাঞ্চ তৈরি সব মিলিয়ে এমন ঘেঁটেছিল  যে সৌরভ ওকে যখন ডেকেছিল ও বিচ্ছিরি ভাবে আজকের  দিনে উত্তর দিয়েছিল তারপর সৌরভ রাগ করে না খেয়ে বেরিয়ে গিয়েছে আজকের দিনে। অথচ ওর জন্যই কড়াইশুঁটির কচুরির আয়োজন কাল থেকে করছিল। 
সৌরভ অনেকবার বলেছে তাকে হয় স্কুলের চাকরি ছেড়ে দাও নয়ত রান্নার লোক রাখ সব একসাথে করলে তো আমাদের কোন জীবন থাকেনা। সকাল থেকে যন্ত্রের মতন চলতে থাক একটু ডাকলে বিরক্ত হও একটা সময় দেখবে জীবনটা অনেক এগিয়ে গেছে কিন্ত আজকের দিনটা আর ফিরে পাবেনা। জানই তো আমি একটু রোমান্টিক আছি এখনও কিন্তু তোমার মধ্যে সব রোমান্স হারিয়ে গেছে নিজের চেহারাটাকেও ঠিক করে মেনটেন কর না আজকাল। 
সুচরিতা বাড়িতে ফোন করে কাজের মাসি কে বলে দিল আমার আসতে একটু দেরি হবে সুচরিতা আজ বহুদিন পরে পার্লারে গেল সাজাল নিজেকে মনের মতন করে। সত্যি সৌরভ ঠিকই বলে মাঝে মাঝে নিজেকে সময় দিতে হয় খুব ভাল লাগল তার সাজার পর আজ নিশ্চয়ই সৌরভ খুব খুশি হবে। 
বাড়িতে আসার সময় একগোছা হলুদ গলাপের তোড়া  আর তিনটি বড় ক্যাডবেরি চকোলেট কিনল। 
বাড়ি ফিরে বিছানার চাদর পাল্টে ঘর গোছাল ফুলদানিতে গোলাপের তোড়া রেখে রান্নাঘরে গিয়ে সৌরভের পছন্দের ডিস বাসন্তী পোলাও আর দইমাছ বানাল। 
রেডি হয়ে বসে থাকতে অধৈর্য লাগছে এমন সময় সৌরভের গাড়ির শব্দ শুনে ছুটে আসতে গিয়েও থেমে গেল মেয়েকে বলল, যা তো তোর বাপি এসেছে দরজাটা খুলে দে মিঙ্কি অবাক হয়ে মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল, এত সেজেছ কেন?
বেশ করেছি তোর কি,?  যা না মা দরজাটা খুলে দে দেরি দেখে সৌরভ ভাবছে নিশ্চয়ই পরীক্ষার খাতা দেখছে তার কাছে তো সব দিনই সমান। 
মিঙ্কি দরজা খুলে বলল, জান বাপি মা না আজ দেরি করে ইস্কুল থেকে এসেছে আর কি সেজেছে দেখ!  মা কে কি সুন্দর লাগছে, সৌরভ ঘরে ঢুকে সত্যি অবাক হয়ে গেল সুচরিতা সৌরভের হাত থেকে ব্যাগটা নিয়ে জায়গা মতন রেখে দিয়ে ওর কাছে এসে হাতে ক্যাডবেরি টা দিয়ে বলল, হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন্স ডে, 
সৌরভ বউয়ের দুকাঁধে হাত রেখ বলল বাবাঃ আজ কোন দিকে চাঁদ উঠেছে দেখি
সুচরিতা সৌরভের বুকে মাথা রেখে বলল, তুমি ঠিকই বল মাঝে মাঝে একটু নিজেদের জন্য সময় দিতে হয় আজ তোমার জন্য  এটুকু করতে পেরে আমার খুব ভাল লাগছে, 
সৌরভ বউকে আরও কাছে টেনে এনে বলল তোমাকেও আজ খুব সুন্দর লাগছে, তারপর ওর কানের কাছে মুখ নিয়ে গুণগুণ করে গেয়ে উঠল, একে তো ফাগুন মাস দারুণ এ সময়, 
সুচরিতা নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বলল, তুমি ফ্রেশ হয়ে নাও আমি খাবার সাজাচ্ছি আজ তোমার পছন্দের রান্না বাসন্তী পোলাও আর দইমাছ, 
সৌরভ নিঃশ্বাস ফেলে বলল, ব্যাস হয়ে গেল ওমনি পালিয়ে গেলে? 
সুচরিতা হেসে বলল বাকিটা রাতের বেলায় পুষিয়ে দেব,
ঠিক বলছ তো?  না তখন বলবে আমার না খুব ঘুম পাচ্ছে, 
না না বলব না দেখ আজ সত্যি আমাদের ঘরে ফাগুন মাসের পূর্ণিমার চাঁদ লুটোপুটি খাবে, 
সৌরভ একটা ফ্লাইং কিস ছুড়ে দিয়ে বলল, আসছি এখনি। সুচরিতা রাতে শুতে আসার আগে মেয়ে আর শ্বশুরকে ক্যাডবেরি দিয়ে বলল, হ্যাপি ভ্যালেন্টাইন্স ডে 
মেয়ে বলল মাম্মা খাই? 
সুচরিতা বলল, না মা কাল খেও,শ্বশুর মশাই বললেন আমি কিন্তু এখনই খাব,
সুচরিতা হেসে বলল ঠিক আছে। 
মেয়েকে ওর ঘরে শুইয়ে এসে সৌরভের হাতে নিজেকে সঁপে দিয়ে বলল,সত্যি মাঝে মাঝে বরের আদর না পেলে সংসারটা নিরস হয়ে যায়, 
সৌরভ সুচরিতা কে গভীর আদরে ভরিয়ে দিয়ে বলল, যাক্ বাবা আমার বউটা মনে হচ্ছে এতদিনে একটু রোমান্টিক হচ্ছে।

 


এ জাতীয় আরো খবর