বুধবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৬

মাত্র এক মাসের শিশু রেখে পরীক্ষা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের মধ্যে প্রথম শামীমা আক্তার

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৭-১১ ২২:৩২:৫৭
ছবি সংগৃহিত

রাজশাহীর বাগমারার এক মেয়ে, শামীমা আক্তার, প্রমাণ করে দিলেন যে মায়ের দৃঢ়তা ও অধ্যবসায় কোনো বাধাকে বাঁধা মনে করে না। মাত্র এক মাস বয়সী কন্যাসন্তানকে ঘরে রেখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ নিয়েও তিনি অর্জন করেছেন সারা দেশে প্রথম হওয়ার গৌরব।
রাজশাহীর হাটগাঙ্গোপাড়া ডিগ্রি কলেজ থেকে বিএসসি (স্নাতক) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সর্বোচ্চ নম্বর ও জিপিএ অর্জন করেন শামীমা। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে কলেজে পাঠানো এক অফিসিয়াল চিঠিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. এনামুল করিম জানান, “সারা দেশের হাজারো পরীক্ষার্থীর মধ্যে শামীমা আক্তার সব বিভাগে এগিয়ে থেকে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন।”
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাইগাছা গ্রামে শামীমার বেড়ে ওঠা। বাবা সাহাদুল ইসলাম ও মা হাজেরা বিবি ছিলেন সবসময় মেয়ের শিক্ষার অনুপ্রেরণা। শামীমার স্বামী আব্দুর রাজ্জাক একজন চাকরিজীবী। পারিবারিক দায়িত্ব, নবজাতকের যত্ন আর পড়াশোনা-সব কিছু একসঙ্গে সামলেই তিনি পেয়েছেন এই অসামান্য ফলাফল।

শামীমা বলেন, “পরীক্ষার সময় আমার মেয়ের বয়স ছিল মাত্র এক মাস। পড়াশোনার জন্য রাত জেগে সময় বের করতে হতো। এই সফলতার পেছনে আমার স্বামী, বাবা-মা, কলেজ শিক্ষকদের অকুণ্ঠ সহায়তা ছিল।”
শামীমা শিক্ষাজীবনে শুরু থেকেই মেধাবী ছিলেন। বাইগাছা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অষ্টম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুল বৃত্তি ও এসএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেন তিনি। উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর ডিগ্রি কোর্সে ভর্তি হন হাটগাঙ্গোপাড়া ডিগ্রি কলেজে।

ভবিষ্যৎ স্বপ্ন নিয়ে শামীমা বলেন, “আমি ম্যাজিস্ট্রেট হতে চাই। সমাজের জন্য কিছু করতে চাই। নারীদের জন্য যেন আমি উদাহরণ হতে পারি, সেটাই সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।”
এই অসাধারণ অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) কলেজ কর্তৃপক্ষ শামীমাকে এক গণসংবর্ধনা প্রদান করে। এসময় কলেজের অধ্যক্ষ এস এম মাহবুবুর রহমান বলেন, “শামীমার সাফল্য শুধু আমাদের কলেজ নয়, পুরো বাগমারা উপজেলার জন্য গর্বের বিষয়। আমরা তার পাশে আছি সবসময়।”
উপস্থিত ছিলেন কলেজের অন্যান্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও। অনুষ্ঠানে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়।
নারী শিক্ষার্থীদের মাঝে যখন নানা প্রতিকূলতায় পড়াশোনা থমকে যায়, তখন শামীমা আক্তারের এই গল্প হয়ে উঠেছে এক জীবন্ত উদাহরণ। সংসার ও সন্তান সামলে কীভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা যায়-তা শিখিয়ে দিচ্ছেন তিনি।

কিওয়ার্ডস:শামীমা আক্তার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম, ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের টপার, রাজশাহীর মেয়ের সাফল্য, হাটগাঙ্গোপাড়া কলেজ ডিগ্রি সেরা, মা হয়ে জাতীয় সাফল্য, বাচ্চা রেখে পরীক্ষা, শামীমার ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ার স্বপ্ন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফল ২০২৫, বাংলাদেশ নারী শিক্ষার অনুপ্রেরণা, রাজশাহী শিক্ষার খবর


এ জাতীয় আরো খবর